জীবনযাপন
চুম্বনের ইতিহাস, আধুনিকতায় উত্তরণ
প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চুম্বন বা চুমু খাওয়া মানুষের ভালোবাসার এক সুন্দর প্রকাশ। কিন্তু মানুষ কবে থেকে এবং কেন চুমু খাওয়া শুরু করল, তা নিয়ে রয়েছে এক মজার ইতিহাস। গবেষকদের মতে, হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের সমাজের পরিবর্তনের সাথে সাথে চুম্বনের নিয়মও বদলেছে।বিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করেন, চুমুর শুরু হয়েছিল আদিম যুগে মা ও সন্তানের সম্পর্ক থেকে। সেই সময়ে আদিম মায়েরা শক্ত খাবার নিজের মুখে চিবিয়ে নরম করতেন। তারপর সেই খাবার সন্তানের মুখে তুলে দিতেন। মুখ থেকে মুখে খাবার দেওয়ার এই স্নেহের স্পর্শই নাকি সময়ের সাথে সাথে বড়দের ভালোবাসার চুম্বনে বদলে গেছে।লিখিত ইতিহাসে চুম্বনের সবচেয়ে পুরোনো প্রমাণ পাওয়া যায় আমাদের এই ভারতবর্ষেই।
খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে লেখা বিখ্যাত ‘কামসূত্র’ বইটিতে চুম্বনের নানা ধরন এবং এর গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ধারণা করা হয়, গ্রিক বীর আলেকজান্ডার যখন ভারত আক্রমণ করেন, তখন তাঁর সৈন্যরা এখান থেকেই চুম্বনের সংস্কৃতি শিখে ইউরোপে ছড়িয়ে দেয়।প্রাচীন রোমান সভ্যতায় চুম্বনের চল ছিল সবচেয়ে বেশি। রোমানরা চুমুকে তিন ভাগে ভাগ করেছিল। প্রথমটি হলো গালে চুমু, যা বন্ধু বা পরিচিতদের সম্মান জানাতে ব্যবহার হতো। দ্বিতীয়টি হলো ঠোঁটে সাধারণ চুমু এবং তৃতীয়টি হলো গভীর ভালোবাসার চুমু। রোমান সমাজে শুধু ভালোবাসাই নয়, কোনো চুক্তি পাকা করতে বা রাজাকে সম্মান জানাতেও চুমু খাওয়ার নিয়ম ছিল।মাঝের সময়ে এসে চুম্বনের ইতিহাসে বড় ধাক্কা লাগে।
মধ্যযুগে ইউরোপে যখন প্লেগের মতো মারাত্মক মহামারী ছড়িয়ে পড়ে, তখন রোগ ছড়ানো আটকাতে জনসমক্ষে চুমু খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। একই সাথে ধর্মের কড়াকড়ির কারণেও মানুষ তখন একে অপরকে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া বন্ধ করে দেয়। তখন অভিবাদন বা শুভেচ্ছা জানানোর জন্য চুমুর বদলে মাথা নোয়ানো বা টুপি খোলার নিয়ম চালু হয়।
আজকের আধুনিক যুগে সিনেমার পর্দায়, গল্প-উপন্যাসে বা বাস্তবে চুম্বন সারা বিশ্বের মানুষের কাছে ভালোবাসার এক সহজ ভাষা হয়ে উঠেছে। আদিম যুগের সেই অভ্যাস আজ মানুষের আবেগ প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। প্রতি বছর ৬ জুলাই বিশ্বজুড়ে 'আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস' হিসেবেও পালন করা হয়।

