জীবনযাপন
আজ থেকেই শুরু হোক ধ্যান, ফিরুক মানসিক শান্তি
প্রকাশিত: ৪ আগস্ট, ২০২৬
বিশেষ সংবাদদাতা: বর্তমান যুগের তীব্র প্রতিযোগিতা, কর্মক্ষেত্রের ইঁদুরদৌড় আর প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া জীবনযাত্রার ইম্প্যাক্ট সরাসরি পড়ছে আমাদের মনের ওপর। বিশ্বজুড়েই এখন ঘরে ঘরে থাবা বসাচ্ছে অবসাদ, উদ্বেগ আর চরম মানসিক চাপ। চিকিৎসকদের মতে, এই বহুমুখী মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে সহজ, প্রাকৃতিক এবং কার্যকরী উপায় হলো প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে ধ্যান বা মেডিটেশন করা। মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের এই অভ্যাস আপনার সারাদিনের কর্মক্ষমতা এবং মানসিক স্থায়িত্বকে আমূল বদলে দিতে পারে।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের চারপাশের পরিবেশ শান্ত থাকে এবং মস্তিষ্কে আলফা তরঙ্গের আধিক্য দেখা যায়। এই সময়ে ধ্যান করলে মনের চঞ্চলতা কমে এবং মনকে সহজে একাগ্র করা সম্ভব হয়। নিয়মিত ধ্যানের ফলে শরীর ও মনের মধ্যে এক অদ্ভুত সামঞ্জস্য তৈরি হয়, যা নেতিবাচক চিন্তা দূর করতে সাহায্য করে।
ধ্যান করার সঠিক পদ্ধতি ও নিয়ম: প্রতিদিন সকালে সূর্যোদয়ের সময় অথবা ঘুম থেকে ওঠার ঠিক পরপরই ধ্যান করার সবচেয়ে সেরা সময়। বাড়ির এমন একটি কোণ বেছে নিন যেখানে কোলাহল কম এবং ভেন্টিলেশন ভালো। শিরদাঁড়া সোজা করে আরামদায়ক আসনে (যেমন পদ্মাসন বা সুখাসন) বসুন। হাত দুটিকে হাঁটুর ওপর আলতো করে রাখুন। চোখ বন্ধ করে লম্বা, গভীর শ্বাস নিন এবং আস্তে আস্তে ছাড়ুন। নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতির ওপর সম্পূর্ণ মনোযোগ দিন। প্রথম দিকে ৫ থেকে ১০ মিনিট দিয়ে শুরু করুন। অভ্যাস তৈরি হয়ে গেলে ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে ২০-৩০ মিনিট করতে পারেন।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, নিয়মিত ধ্যান করলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বা ‘কর্টিসল’-এর ক্ষরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, সকালে ধ্যান করলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে, যার ফলে কাজের প্রতি মনোযোগ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। অনিদ্রার সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য সকালের ধ্যান এক ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এটি মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা ভয় ও উদ্বেগ দূর করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। তাই সুস্থ শরীর ও শান্ত মনের চাবিকাঠি হিসেবে প্রতিদিন সকালে ধ্যানকে নিজের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলা আজ অত্যন্ত জরুরি।

