পূরব ব্যানার্জীর কবিতা: রাত্রি শেষে সেই বিষন্ন সকাল এবং ব্যর্থতা
রাত্রি শেষে সেই বিষন্ন সকাল
পূরব ব্যানার্জী
রাত্রির শেষে ঘুম ভাঙা সকালে,
সূর্যের আলোয় উঠি জেগে ---------------
পায়ে পায়ে এগিয়ে, পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে,
খোলা আকাশের পানে থাকি চেয়ে !!
হয়ত নতুন দিন এসেছে, নব ফরমান নিয়ে সাথে !
হয়ত সব কষ্ট বেদনা বিপ্লব শেষে,
নতুন সূর্য্য উঠেছে পূব কোণে -----------
নতুন ঠিকানা সাথে নিয়ে !!
তারপর আচ্ছন্নতা কাটে ধীরে ধীরে,
বিনিদ্র রাতের ঠিক আগে ---------------
সেই একই ভৈরবী রাগ !
সেই উদ্দামতা আর উল্লাস মৃত প্রাণেদের ,
সেই যুগান্তরের জীর্ণ চাদর গায়ে জড়িয়ে মৃত সমাজ,
মধ্যযুগীয় স্বাধীনতার পতাকা বুকে সেঁটে ,
সীমানার হিসেব শুরু করে।।
আরও কত রাত ! কত দূর্যোগ ! হবে পার -----------
হ্যামিলিয়নের বাঁশির সম্মোহন যাবে কেটে,
আরো কত অপেক্ষার পরে !
ফুটপাথ, প্ল্যাটফর্মে আস্তানা ঘিরে, হাভেতেদের উল্লাস আজও,
পথচলতি নিত্যযাত্রীদের তারই মাঝে,
কামাচ্ছন্ন আহারের সন্ধান !
খেটে খেয়ে রোজকার বাঁচাই এদের ধর্ম,
এমনই কত রাত কাটে, তারপরে আসে কত দিন,
শতাব্দীর হাত ধরে !!
তবু এরা আজও একইভাবে, নিমিত্তের সরকার গড়ে।।
মনে হয় আঁধারে ঢাকা রাত ঢেড় ভালো,
অদ্ভুত মানুষগুলোর -------------------
বিচিত্র বিচারের সকালের চেয়ে!
অথচ সব চেনা মুখ,
পরিচিত নাম, জানাশোনা বহুকাল ধরে,
কত নামে আজও শ্রদ্ধায় থাকি চেয়ে, উৎসুক ভাবে অতীতের পাতা ঘেঁটে !!
তারপরে বীভৎসতা দেখি শুধু, মুর্খের হাসির আড়ালে ।।
ঘার পিঠ পেতে দেয় , শঠতার রসায়নে,
বাহুবল অর্থবল তুলি হাতে নকশা কাটে, আলপনা দেয় ------------------
সমাজের মলিন দেওয়ালে !!
এভাবেই বেঁচে থাকে ওরা সমাজকে আলতো হাতে ছুঁয়ে ,
উন্নয়ন আর দেশপ্রেমের মায়াজালে।।
মানুষের আগে দেশপ্রেম !
ক্ষুদার্থ উদরে, অন্নশুণ্য থলে নিয়ে কাঁধে,
দেশপ্রেমের গান শুনে এরা!!
শঠতার জালে, মেকী দরদী রাজনেতা,
এদেরই কপালের বলিরেখা বন্ধক রেখে------------
কামিনী কাঞ্চনে ডুব দিয়ে, অট্টালিকা প্রাসাদ গড়ে !!
অসহায় মুখগুলো জয়ধ্বনি দিয়ে অপেক্ষায় থাকে,
প্রভুর ছুঁড়ে দেওয়া,
উচ্ছিষ্ট প্রসাদের অন্বেষণে !
দেশমাতার কাতর আর্তনাদ মাটি চাপা পড়ে,
সমাজের বুদ্ধিজীবী, দিকপাল যত ---------------
নিয়মের বেড়াজাল কেটে, আস্তানা সুরক্ষিত করে !!
এভাবেই মুষ্টিমেয় চালাকের দল,
যুগে যুগে সমাজের পিঠে ছুড়ি ফুঁড়ে ,
সমাজের কারিগর সেজে------------
অগণিত জীবন্ত শবের রক্ত নিয়ে খেলে।।
ব্যর্থতা
পূরব ব্যানার্জী
অশান্ত সাগরের দুরন্ত জলোচ্ছ্বাস বুকে নিয়ে ,
নির্লিপ্ত বলাকার মতো দিয়েছি মেলে,
ইচ্ছে ডানা দুটি !
বিশাল চাহিদার এই জীবনসাগরে,
অতৃপ্ত রয়ে গেছি তবু আমারই -------------
অতৃপ্ত কামনার নগ্নতা কে ঘিরে।।
আত্মসমীক্ষা করিবার তরে -------
জাগতিক জ্ঞানের সঞ্চার হল যবে !!
সেই দিন হতে রেখেছি ব্যস্ত করে,
মূর্খ সম নিজেরে, জীর্ণ বাসনার অনন্ত প্রতিযোগিতার দৌড়ে !
শুধু যোগ আর বিয়োগ এর খেলা ঘরে ।।
প্রতিক্ষণ কুহেলিকা সাজায়েছি,
স্বর্নালী স্বপ্ন'রে মেখে গায়ে,
মিথ্যে বাঁচিবার ছলে ------------
দলদলে ডুবিয়েছি বাসনায় দগ্ধ ,
আমার অদৃশ্য অশান্ত চিত্তরে ।।
যতটুকু প্রাপ্তি ছিল,
প্রতিদিন বাড়িয়েছি মাত্রা তার,
অনন্ত অভিলাষা যত অশান্ত মনের রামধনু ধরিবার------------
অলিক প্রয়াসে,
নিজেকে দিয়েছি সঁপে ততবার !!
পৃথিবীর ভুলেভরা মরীচিকা সম রঙিন সাগরে।
অসম্পুর্ণ সমীক্ষা যত রয়ে গেছে,
আগামীর সময়ের দ্বারে,
এক অনাহুত অপেক্ষার তরে।।
অবাঞ্ছিত ছিল যাহা, তারেই রেখেছি সম্বলরূপে ,
নিজেরে হারায়েছি,
নিজেরই কাছে প্রতিবারে !
দুরন্ত উদ্দ্যম যত, করিয়াছি নিঃশ্বেসিত,
জীবন সমুদ্রে দক্ষ ডুবুরীর মতো দিয়ে ডুব,
করেছি সঞ্চিত শুধুই -----------
রাশি রাশি ঝিনুকের খোল,
বৃথা কালপাত হায় !! দিকভ্রান্ত, ভুল শুধু ভুল !
অমূল্য মুক্তের সন্ধান ভুলে গিয়ে ---------
বঞ্চিত করেছি আপনারে ,
পার্থীব সুখ খুঁজিবার তরে।।

