অফবিট
আত্মসুখ পেতে গিয়ে ব্রেন হেমারেজ! হস্তমৈথুনের সময় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন প্রৌঢ়
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: চরম সুখের মুহূর্ত উপভোগ করতে গিয়ে যে মানুষের জীবনে এমন অভাবনীয় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি কেউ। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমনই এক বিরল ও শিউরে ওঠা ঘটনা ঘটেছিল জাপানে। আত্মসুখ বা হস্তমৈথুন (Masturbation) করতে গিয়ে তীব্র যৌন উত্তেজনার জেরে আচমকাই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন হেমারেজ হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছিলেন ৫১ বছর বয়সী এক প্রৌঢ়। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা ‘জার্নাল অফ স্ট্রোক অ্যান্ড সেরিব্রোভাসকুলার ডিজিজেস’-এ এই সংক্রান্ত একটি চাঞ্চল্যকর মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশিত হতেই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল গোটা বিশ্বের চিকিৎসক মহল।
মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি যখন নিজের বাড়িতে হস্তমৈথুন করছিলেন, ঠিক চরম মুহূর্তে পৌঁছানোর ঠিক প্রাক্কালে আচমকাই তাঁর মাথায় এক তীব্র ও অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। বিশেষ করে তাঁর কপালে বাঁদিকে এই অসম্ভব যন্ত্রণা স্থায়ী হয়েছিল প্রায় এক মিনিট। এর পরেই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে শুরু করে। প্রৌঢ়ের অনবরত বমি হতে থাকে, চারপাশের সবকিছু গুলিয়ে যেতে শুরু করে এবং কোনও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর মানসিক অসাড়তা দেখা দেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই ব্যক্তি নিজেই কোনওমতে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে পৌঁছান।
হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকেরা তাঁর মাথার সিটি স্ক্যান (CT Scan) করতেই আসল সত্য সামনে আসে। দেখা যায়, ওই ব্যক্তির মস্তিষ্কের ভেতরের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশে তীব্র রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সাবঅ্যারাকনয়েড হেমারেজ’ (Subarachnoid Hemorrhage)। এটি মূলত এক ধরনের স্ট্রোক, যা মানুষের মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে।
নিউরোসার্জনদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হস্তমৈথুন বা যৌন মিলনের চরম মুহূর্তে মানুষের শরীরে হৃদস্পন্দনের গতি এবং রক্তচাপ (Blood Pressure) অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়। এই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও যৌন উত্তেজনার চরম শিখরে পৌঁছানোর সময় রক্তচাপ এতটাই আচমকা বেড়ে গিয়েছিল যে, তাঁর মস্তিষ্কের একটি দুর্বল রক্তনালী সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে ফেটে যায় এবং ভেতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
জাপানের নাগোয়া সিটি ইউনিভার্সিটির চিকিৎসকেরা কালবিলম্ব না করে ওই প্রৌঢ়ের চিকিৎসা শুরু করেন। সৌভাগ্যবশত, সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর কারণে এবং অস্ত্রোপচার ছাড়াই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) প্রায় দুই সপ্তাহ কঠিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার সময় তাঁর শরীরে কোনও পক্ষাঘাত বা স্থায়ী স্নায়বিক সমস্যা দেখা যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, এই ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চরম শারীরিক উত্তেজনার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

