মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স
স্পোর্টস ডেস্ক: মরক্কোর জমাট রক্ষণ ও গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোর অনবদ্য প্রাচীর ভেঙে অবশেষে জয় ছিনিয়ে নিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। প্রথমার্ধের গোলশূন্য অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দিদিয়ের দেশঁর ছেলেরা। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাসিরা। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে হতাশ করা কিলিয়ান এমবাপে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে যেমন প্রায়শ্চিত্ত করলেন, তেমনই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত করেন উসমান দেম্বেলে।
প্রথমার্ধে ৬৩ শতাংশ বলের দখল রেখেও লুকাস ডিগনের ক্রসবারে লাগা শট আর এমবাপের পেনাল্টি মিসের কারণে হতাশ হতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। তবে বিরতির পর কৌশল বদলে মরক্কোর বক্সে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয় ফরাসি আক্রমণভাগ। মাঝমাঠ থেকে মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে দুয়ের নিখুঁত পাসিং মরক্কোর রক্ষণভাগকে খণ্ডবিখণ্ড করতে শুরু করে।
ম্যাচের খলনায়ক থেকে নায়ক হয়ে উঠতে কিলিয়ান এমবাপে বেশি সময় নেননি। ম্যাচের ঠিক কত মিনিটে গোলটি এসেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও, কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মরক্কোর ডিফেন্ডারদের গতিতে পরাস্ত করেন এমবাপে। বক্সের ভেতর দেজিরে দুয়ের বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে এবার আর কোনো ভুল করেননি ফরাসি অধিনায়ক। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি (১-০)। এই গোলের সাথে সাথেই ফরাসি শিবিরে স্বস্তি ফিরে আসে।
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মরক্কো ম্যাচ সমতায় ফেরাতে অল-আউট আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে। আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজ ফরাসি ডিফেন্সে ফাটল ধরার চেষ্টা করলেও উইলিয়াম সালিবা আজ ম্যাচ জুড়ে ছিলেন অতিমানবীয়। মরক্কোর আক্রমণের সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে প্রতি-আক্রমণে যায় ফ্রান্স। ডান প্রান্ত থেকে একক দক্ষতায় বল নিয়ে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি জোরালো শটে গোল করেন উসমান দেম্বেলে (২-০)।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে রূপকথার ফুটবল খেলা মরক্কো এদিনও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে। ব্রাহিম দিয়াজের একটি শট ফরাসি গোলরক্ষক চমৎকারভাবে প্রতিহত করেন। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ফ্রান্স শিবির। একের পর এক সুযোগ নষ্টের মহড়া দিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানের জয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স, আর হারের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মরক্কোকে।

