খেলা
বিশ্বমঞ্চে ট্র্যাজিক নায়ক জিকো
প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: মিশরের উত্তর উপকূলে তখন নীল সমুদ্রের নীল জলরাশি আর সোনালী বালুতটে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটানোর জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সে দেশের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা "জিকো" আবদেলরউফ। ঠিক সেই সময় একটি ফোন কল ওলটপালট করে দেয় তাঁর চেনা জীবন। লাইনের ওপারে ছিলেন জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসান। কোচের সেই ডাকে ছুটির সমস্ত পরিকল্পনা বাতিল করে সোজা বিশ্বকাপ স্কোয়াডে যোগ দেন জিকো। আর সেই আকস্মিক সুযোগই চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁকে রাতারাতি পরিণত করেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ফুটবলারে।
বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল মিশর। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে লিয়োনেল মেসিদের জালে বল জড়িয়ে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন জিকো। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর হস্তক্ষেপে আক্রমণের শুরুতে ফাউলের অপরাধে সেই গোল বাতিল করে দেওয়া হয়। গোল বাতিলের ধাক্কা সামলে ঠিক সাত মিনিট পরেই, অর্থাৎ ৬৭ মিনিটে আবারও জুনিয়র মারাদোনাদের রক্ষণ ভেঙে নিখুঁত কাউন্টার অ্যাটাকে আসল গোলটি করেন এই মিশরীয় ফরোয়ার্ড। জিকোর এই গোলেই মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে রূপকথার জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
তবে সেই বাঁধভাঙা আনন্দের হাসি ম্যাচ শেষে স্থায়ী হয়নি জিকোর মুখে। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এনজো ফার্নান্দেজের ইনজুরি টাইমের গোলে নাটকীয়ভাবে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। ফলে নিশ্চিত জয়ের দোরগোড়া থেকে ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয় মিশরকে। চোখের জলে মাঠ ছাড়ার পর ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারকে তীব্র আক্রমণ করেন জিকো।
ম্যাচটি রেফারি একতরফাভাবে আর্জেন্টিনার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সমুদ্রসৈকতের ছুটি বাতিল করে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়ার এই লড়াইয়ে জিকো এখন মিশরের ট্র্যাজিক হিরো।

