রাজ্য
নিখোঁজ ট্রলারের হদিশ কাকদ্বীপে, স্বস্তিতে মৎস্যজীবীদের পরিবার
প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘ পাঁচ দিনের চরম উৎকণ্ঠার অবসান। অবশেষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ উপকূলবর্তী এলাকা থেকে খোঁজ মিলল রামনগরের শংকরপুর মৎস্যবন্দর থেকে নিখোঁজ হওয়া সেই ট্রলারটির। ট্রলারে থাকা ১৫ জন মৎস্যজীবীই সুরক্ষিত আছেন বলে জানা গিয়েছে। টানা চারদিন ধরে ট্রলারটির কোনও হদিশ না মেলায় মৎস্যজীবীদের পরিবারে যে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, এই খবর আসতেই তা স্বস্তিতে বদলে গিয়েছে।
প্রশাসন ও মৎস্যজীবী সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ জুলাই শংকরপুর মৎস্যবন্দর থেকে ১৫ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ‘জয় মা কালী’ নামের ট্রলারটি। কিন্তু রওনা দেওয়ার চারদিনের মাথায়, অর্থাৎ গত ৬ জুলাই দুপুরের পর থেকে আচমকাই ওই ট্রলারের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্যাটেলাইট ফোন বা ওয়্যারলেস— কোনও মাধ্যমেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতেই বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু হয়। সমুদ্রে নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের সন্ধানে একযোগে নামানো হয় উপকূল রক্ষী বাহিনী (কোস্টাল গার্ড), উপকূল থানা পুলিশ (কোস্টাল পুলিশ) এবং অন্যান্য সহযোগী ট্রলারের উদ্ধারকারী দলকে। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া এবং সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতির কারণে প্রথম কয়েকদিন ওই মৎস্যজীবীদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এদিকে সময় যত গড়াচ্ছিল, শংকরপুর বন্দর এলাকায় নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের ভিড় ততই বাড়ছিল। প্রিয়জনদের কী দশা হলো, সেই আশঙ্কায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন অনেকে। অবশেষে শনিবার সকালে কাকদ্বীপের কাছে ট্রলারটির সন্ধান মিলতেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন পরিবারের সদস্যরা। প্রাথমিক অনুমান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই ট্রলারটি দিক হারিয়ে কাকদ্বীপের দিকে চলে গিয়েছিল এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। মৎস্যজীবীদের উদ্ধার করে দ্রুত বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

