বিদেশ
১৪ বছর বয়সী মেয়েকে 'অনার কিলিং', বাবা ও শ্যালককে যাবজ্জীবন
প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিজের ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে 'অনার কিলিং' বা পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে হত্যার দায়ে এক মার্কিন নাগরিক এবং তার পাকিস্তানি শ্যালককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে পাকিস্তানের একটি আদালত। নিউ ইয়র্কের দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নিহত কিশোরী হিরা আনোয়ার (১৪) নিউ ইয়র্কের ইয়ঙ্কার্সের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। টিকটকে গান ও ভিডিও পোস্ট করার কারণে তার বাবা এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে আদালতের শুনানিতে উঠে এসেছে।
জানা গিয়েছে, ১৪ বছর বয়সী হিরা আনোয়ার, যে টিকটকে বিভিন্ন পপ ব্যান্ডের গান দিয়ে ভিডিও তৈরি করত। হিরার বাবা আনোয়ার-উল-হক। সে দীর্ঘদিন ধরে নিউ ইয়র্ক শহরে উবার চালক হিসেবে কর্মরত ছিল এবং মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে হিরার স্কুল ছুটির সময় পারিবারিক ভ্রমণের অজুহাতে তাকে কৌশলে পাকিস্তানে নিয়ে আসে তার বাবা।
বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় নিজেদের বাড়ির সামনে হিরাকে একা দাঁড় করিয়ে রেখে আনোয়ার-উল-হক বাড়ির ভেতর ফোন নেওয়ার বাহানায় চলে যায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই সময়েই হিরার মামা মুহাম্মদ তায়াব মোটরসাইকেলে এসে তার বুকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
১৮ মাস দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে কোয়েটার জেলা আদালতের বিচারক শাহিদ জাভেদ এই হত্যাকাণ্ডটিকে 'পূর্বপরিকল্পিত' বলে রায় দেন। প্রসিকিউশন হিরার জীবনযাত্রার সাথে হত্যার উদ্দেশ্যের সরাসরি আইনি সংযোগ পুরোপুরি প্রমাণ করতে না পারায় আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই আসামির প্রত্যেককে প্রায় ৭১৫ মার্কিন ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে আসামীপক্ষের আইনজীবী নাভিদ কামব্রানি জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
হিরার এই নির্মম মৃত্যু পাকিস্তানে তথাকথিত 'অনার কিলিং' বা অনার ক্রাইমের অন্ধকার দিকটিকে আবারও সামনে এনেছে। হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান (HRCP)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে পরিবারের সম্মানহানির অজুহাতে প্রতি বছর শত শত নারী ও শিশু নিজ আত্মীয়দের হাতে নির্মমভাবে খুন হচ্ছে, যার মধ্যে অন্তত ৪০৫টি অনার কিলিংয়ের ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করা হয়েছে।

