বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
সর্বশেষ খবর

কসবার হোটেলে মধুচক্র, ধৃত চার জন

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬
কসবার হোটেলে মধুচক্র, ধৃত চার জন
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খোদ দক্ষিণ কলকাতার বুকে বিলাসবহুল হোটেলের আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল মধুচক্রের কারবার। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে কসবা এলাকার একটি নামী হোটেলে আচমকা হানা দেয় লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা। সেখান থেকে এক ১৫ বছরের নাবালিকা এবং দুই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই নারী পাচার ও মধুচক্র চালানোর অভিযোগে পুলিশ হোটেলের ম্যানেজার ও রিসেপশনিস্ট সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম আকাশ গঙ্গোপাধ্যায় (হোটেল ম্যানেজার), আনমোল ঠাকুর (রিসেকশনিস্ট), মহম্মদ আসিফ এবং মুসকান পারভিন। আসিফ ও মুসকান মূলত নারী পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা শহরতলি ও গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে গরিব ও অসহায় পরিবারের মেয়েদের টার্গেট করত। মোটা মাইনের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নাবালিকা ও তরুণীদের কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু শহরে এনে তাদের একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হয় এবং জোর করে নামানো হয় দেহব্যবসায়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই চক্রটি খদ্দের ডাকার জন্য প্রযুক্তির অনবদ্য ব্যবহার করছিল। বিভিন্ন নামী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভুঁয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে বা গ্রুপ তৈরি করে খদ্দেরদের আকর্ষণ করা হত। সেখানেই চলত রফা। এরপর খদ্দেরদের নির্দিষ্ট কোড নম্বর দিয়ে ডেকে নেওয়া হত কসবার ওই নির্দিষ্ট হোটেলে। হোটেলের ম্যানেজার ও রিসেপশনিস্ট এই গোটা বেআইনি কারবারের বিষয়ে সব জানতেন এবং মোটা টাকার বিনিময়ে ঘর পাইয়ে দিতেন।
উদ্ধার হওয়া নাবালিকা ও তরুণীদের আপদকালীন কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধৃত চারজনকে বুধবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। লালবাজারের এক পদস্থ কর্তা জানান, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার সাথে শহরের আর কোনও নামী হোটেল বা প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত আছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। শহরের বুকে এমন ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আরও খবর