বিদেশ
কর্মী ছাঁটাই করে আনা যাবে না এআই, নির্দেশ আদালতের
প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির রমরমার বাজারে বিশ্বজুড়ে যখন কোটি কোটি মানুষের চাকরি হারানোর ভীতি ও আশঙ্কা তুঙ্গে, ঠিক তখনই মেহনতি মানুষের সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায় দিল চিনের একটি আদালত। চিনের উচ্চ আদালতের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো কোম্পানি বা কর্পোরেট সংস্থা চাইলে তার কাজের গতি বাড়াতে কিংবা উৎপাদন খরচ কমাতে এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিতেই পারে; কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সেই অজুহাতে তারা তাদের পুরনো রক্তমাংসের কর্মীদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করতে পারবে। মানুষের বিকল্প হিসেবে এআই-কে ব্যবহার করে কর্মী প্রতিস্থাপন বা লে-অফ (Layoff) করার এই প্রবণতাকে সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ বলে ঘোষণা করেছে আদালত।
প্রযুক্তি বিশ্বে চিনের আদালতের এই রায়কে স্বস্তির ও বড়সড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন শ্রম বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বহুজাতিক টেক কোম্পানি তাদের খরচ কমাতে চ্যাটবট কিংবা স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেমের ওপর ভরসা বাড়াচ্ছিল, যার জেরে কাজ হারাচ্ছিলেন হাজার হাজার কর্মী। আদালতের এই রায়ের পর কর্পোরেট সংস্থাগুলির সেই একচেটিয়া দাপটে বড়সড় লাগাম পড়ল।
চিনা আদালত স্পষ্ট করেছে, এআই-কে মানুষের কাজের ‘সহায়ক’ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, মানুষের ‘বিকল্প’ হিসেবে নয়। কোনো সংস্থায় এআই প্রযুক্তি আনার কারণে কোনো কর্মীকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হলে, তা শ্রম আইনের চরম লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে এবং কোম্পানিকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে।
সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ছাঁটাই না করে বরং পুরনো কর্মীদেরই নতুন এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে হবে।বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি-নির্ভর দেশ চিনের এই ঐতিহাসিক আইনি পদক্ষেপ আগামী দিনে অন্যান্য দেশের শ্রম আদালতেও এক বড় নজির হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মানুষের মেধা ও শ্রমকে প্রযুক্তির আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে এই রায় এক নতুন দিশা দেখাল।

