বিদেশ
হাসিনা নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইছে বাংলাদেশ
প্রকাশিত: ৪ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: ঠিক দু’বছর আগের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে পড়ে ঢাকা ছেড়ে ভারতে চলে এসেছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল, বুধবার সেই ঐতিহাসিক ও নাটকীয় ঘটনার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। এই বিশেষ দিনটিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া (FCC) একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এই আলোচনা সভাতেই আগামীকাল ভার্চুয়ালি প্রধান ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে স্বয়ং শেখ হাসিনার। ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়ার পর এই প্রথম তিনি কোনও প্রকাশ্য কর্মসূচিতে দীর্ঘ বক্তব্য রাখতে চলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।
নয়াদিল্লির সাংবাদিক বৈঠকটিতে হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর ছেলে তথা প্রাক্তন তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়-এরও। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, হাসিনা তাঁর এই ভার্চুয়াল বক্তৃতায় ২০২৪ সালের সেই গণঅভ্যুত্থানের নেপথ্য কাহিনী, তাঁর দেশত্যাগ এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা দিতে পারেন। গত দুই বছর ধরে ভারতে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে তাঁর কিছু অডিও ক্লিপ ও লিখিত বিবৃতি সামনে এলেও, সরাসরি কোনও মঞ্চে তাঁকে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়নি। ফলে আগামীকাল তিনি ভারতের মাটি থেকে বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে ঠিক কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি।
তবে হাসিনার এই প্রকাশ্য বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে তীব্র কূটনৈতিক চাপানউতোর। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সম্পর্কের সমীকরণকে এই ঘটনা প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ঢাকার পক্ষ থেকে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির বিরোধিতা করা হতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। এদিকে হাসিনার এই ভাষণ নিয়ে দিল্লিকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলল বাংলাদেশ। তারা জানায়, একজন পলাতক ব্যক্তিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া হলে তা দু দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে। বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে একটি দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই না এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি হোক। এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

