বিদেশ
দলের অন্দরে তীব্র বিদ্রোহ, ইস্তফা দিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০২৪ সালের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর দুই বছরও কাটল না। তীব্র রাজনৈতিক চাপ ও দলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন বিদ্রোহের মুখে পড়ে অবশেষে ইস্তফা দিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তথা লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। সোমবার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। স্টারমারের এই নাটকীয় বিদায়ের ফলে এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে ব্রিটেন, যা দেশটির দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই আবার সামনে এনে দিল।
ডাউনিং স্ট্রিটের পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে বিদায়ী ভাষণে স্টারমার বলেন, “আমি দেশের মানুষের রায় শুনতে পেয়েছি এবং তা মাথা পেতে নিচ্ছি।” তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিগত দুই বছরে নেওয়া তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তই ছিল নিজের ভালোবাসার দেশকে সবার আগে রাখার জন্য। নিজের বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন তিনি। এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য নিজের স্ত্রী ভিক্টোরিয়াকে ধন্যবাদ জানান স্টারমার। ইতিমধ্যেই রাজা চার্লসকে নিজের ইস্তফার কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। নতুন নেতা নির্বাচন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বার্থে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন।
কেন এই আকস্মিক পতন? ২০২৪ সালে লেবার পার্টিকে ঐতিহাসিক জয় এনে দিলেও গত কয়েক মাসে স্টারমারের জনপ্রিয়তা হু হু করে কমতে শুরু করে। অতি-ডানপন্থী দল ‘রিফর্ম ইউকে’-র উত্থান এবং গত মে মাসে ব্রিটেনের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টির নজিরবিহীন ভরাডুবি স্টারমারের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। ওই নির্বাচনে লেবার পার্টি প্রায় ১,৫০০টি আসন হারায়, যার বড় অংশই চলে যায় নাইজেল ফারাজের দলের ঝুলিতে। এর পাশাপাশি, একাধিক প্রথম সারির মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলির পদত্যাগ স্টারমার সরকারের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেয়।
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে? স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার সঙ্গেই লেবার পার্টির নতুন নেতা এবং দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ৯ জুলাই থেকে দলীয় স্তরে মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হবে। ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রাক্তন মেয়র তথা লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম। গত সপ্তাহেই উত্তর ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে জিতে তিনি ফের সংসদে ফিরেছেন। বার্নহামের আরেক প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ইতিমধ্যেই নিজেকে এই লড়াই থেকে সরিয়ে নিয়ে বার্নহামকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনুমান, আগামী সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট খোলার আগেই ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চাবি নতুন প্রধানমন্ত্রীর হাতে চলে যাবে।

