বিদেশ
নিরাপত্তার দড়ি না বেঁধেই ১৩০ ফুটের ব্রিজ থেকে ধাক্কা! তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু
প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বানজি জাম্পিংয়ের মতো রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে অংশ নিতে গিয়ে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হলেন ২১ বছরের এক তরুণী। অভিযোগ, কোমরে সুরক্ষার প্রধান দড়ি (Safety Bungee Cord) না বেঁধেই তাঁকে ব্রিজের ওপর থেকে নিচে ধাক্কা দেওয়া হয়। যার ফলে প্রায় ১৩০ ফুট গভীর খাঁদে আছড়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যের লাইমেইরা এলাকায় অবস্থিত কুখ্যাত ‘স্কেলিটন ব্রিজ’-এ (Skeleton Bridge) এই শিউরে ওঠার মতো দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত তরুণীর নাম মারিয়া এদুয়ার্দা রদ্রিগেস দে ফ্রেইতাস। আয়োজক সংস্থার চরম গাফিলতির এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লাইমেইরা এলাকার ওই পরিত্যক্ত রেল ব্রিজটি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ২১ বছরের মারিয়াও ছুটির দিনে সেখানে বানজি জাম্পিংয়ের রোমাঞ্চ অনুভব করতে গিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জাম্পিংয়ের জন্য মারিয়া যখন ব্রিজের প্রান্তে এসে দাঁড়ান, তখন আয়োজক সংস্থার কর্মীরা তড়িঘড়ি তাঁর শরীরের অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা করলেও, মূল জীবনদায়ী দড়িটি (Bungee Rope) তাঁর হারনেসের সঙ্গে বাঁধতেই ভুলে যান। মারিয়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাইনের পেছনে থাকা কর্মীরা তাঁকে নিচে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য ধাক্কা মারেন। কোনো অবলম্বন ছাড়াই সরাসরি ১৩০ ফুট নিচে পাথুরে জমিতে আছড়ে পড়েন ওই তরুণী।
এই চরম অবহেলা ও মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে ব্রাজিলের প্রশাসন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করেছে। ধৃতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ এবং একজন মহিলা কর্মী রয়েছেন, যাঁরা ঘটনার সময় মারিয়ার সুরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন।
ওই সংস্থার অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস করানোর কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল কিনা এবং সুরক্ষার নিয়মাবলী মানা হতো কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত ওই ব্রিজে সমস্ত রকম রাইড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মারিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজক সংস্থার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তরুণীর অকালমৃত্যুর এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এই ধরণের বিপজ্জনক খেলা পরিচালনার লাইসেন্স দেওয়া নিয়ে ব্রাজিলের পর্যটন ও ক্রীড়া দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

