নিজস্ব প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে পা রেখেই এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক নজির সৃষ্টি করল ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা ও রকেট প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘স্পেসএক্স’ (SpaceX)। শুক্রবার মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জ নাসদাক-এ (Nasdaq) ‘SPCX’ টিকারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রথম দিনেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই আইপিও (IPO) নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে পৌঁছায়। লিস্টিংয়ের প্রথম দিনেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ১১ শতাংশ প্রিমিয়াম সহ ১৫০ ডলারে ওপেন হয়। লেনদেন চলাকালীন তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ প্রায় ১৬৭ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে স্পেসএক্সের মোট বাজারমূল্য (Market Capitalization) এক ধাক্কায় ২.১৮ ট্রিলিয়ন (২.১৮ লাখ কোটি) ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আর এই রকেট গতির সাফল্যের ওপর ভর করেই ইতিহাসের পাতায় নতুন নাম লিখলেন ইলন মাস্ক। বিশ্বের প্রথম অফিশিয়াল ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ (১ লাখ কোটি ডলারের মালিক) হয়ে উঠলেন তিনি।
বাজার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি ছিল শেয়ার বাজারের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও। যেখানে প্রাথমিক অফার প্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার, বাজার খোলার সাথে সাথেই বিপুল চাহিদার কারণে তা হু হু করে বাড়তে থাকে। প্রথম দিনের লেনদেন শেষে স্পেসএক্সের এই আকাশছোঁয়া বাজারমূল্য বিশ্বখ্যাত বহু কর্পোরেট সংস্থাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে, এমনকি মাস্কের নিজস্ব বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘টেসলা’-কেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।
এই ঐতিহাসিক লিস্টিংয়ের পর ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১.১১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা তাঁকে বিশ্বের ধনকুবেরদের তালিকায় এক ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। ফোর্বস ও ব্লুমবার্গের সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনীর চেয়ে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেশি। আমেরিকার টেক্সাস থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই ঐতিহাসিক আইপিও-র উদ্বোধনী ঘণ্টা বাজান মাস্ক। পরে তিনি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, একসময়ে একটি সাধারণ গুদামে শুরু হওয়া ছোট একটি কোম্পানি আজ বিশ্বের বৃহত্তম আইপিও নিয়ে বাজারে ইতিহাস গড়বে, তা ভাবাই কঠিন ছিল।