‘বিশেষজ্ঞদের জার্মান ড্রাইভিং স্কুল’ আসলে ভয়ঙ্কর এক চীনা ধর্ষণ চক্র!
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এটি বিশেষজ্ঞদের জন্য তৈরি জার্মানির একটি সাধারণ ড্রাইভিং স্কুল। কিন্তু এর আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক শিউরে ওঠার মতো অন্ধকার জগত। জার্মানির তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটি কোনো ড্রাইভিং স্কুল ছিল না, বরং মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের আড়ালে গড়ে ওঠা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এক অনলাইন অপরাধচক্র। যেখানে মাদক খাইয়ে নারীদের ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে নিয়মিত বড়াই করা হতো এবং কীভাবে নারীদের সংজ্ঞাহীন বা অজ্ঞান করা যায়, তার নানা কৌশল বা টিপস শেয়ার করা হতো।
তদন্তকারী ও আদালতের নথিতে উঠে এসেছে অপরাধীদের ব্যবহৃত অত্যন্ত আপত্তিকর ও অমানবিক কিছু কোডনেম। তারা নারীদের সম্বোধন করত ‘গাড়ি’ (Cars) বলে। নারীদের অচেতন করার জন্য ব্যবহৃত চেতনানাশক বা মাদককে তারা বলত ‘জ্বালানি’ (Fuel) এবং ধর্ষণ করাকে বলা হতো ‘ড্রাইভিং’ (Driving)। আরও ভয়ানক বিষয় হলো, ধর্ষণের শিকার হওয়া সংজ্ঞাহীন ভুক্তভোগী নারীদের তারা ‘মরা শুয়োর’ (Dead pigs) বলে ডাকত। এই টেলিগ্রাম গ্রুপগুলোতে প্রায়ই অচেতন ও নির্যাতিত নারীদের ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করে উল্লাস করত অপরাধীরা।
জার্মান তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই অনলাইন শিকারী নেটওয়ার্কটি মূলত জার্মানিতে বসবাসরত চিনা পুরুষদের দ্বারা পরিচালিত হতো। আর এই চক্রের মূল টার্গেট বা শিকার ছিল জার্মানিতে থাকা চিনা বংশোদ্ভূত নারীরাই। বিগত কয়েক বছর ধরে এই চক্রের প্রায় দুই ডজন টেলিগ্রাম গ্রুপ চ্যাটের হাজার হাজার পোস্ট, ছবি ও ভিডিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। নারীদের সুরক্ষার স্বার্থে এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা উপড়ে ফেলতে আন্তর্জাতিক স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে।

