বিদেশ
চট্টগ্রামে পাহাড়ে ধস, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার কিশোরীর মৃতদেহ
প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: কয়েক ঘণ্টা আগেও যেখানে ছিল একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ছন্দ, দুপুরের আগেই সেখানে নেমে এল চরম বিপর্যয়। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা টন টন কাদা, গাছপালা আর মাটি মুহূর্তে গুঁড়িয়ে দিল একটি স্বপ্ন। বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ চট্টগ্রাম নগরের মেয়র গলির মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের পাদদেশে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হল ১৩ বছরের এক কিশোরীর। নিহত ওই কিশোরীর নাম সামিয়া ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের একদম পাদদেশে গা ঘেঁষে সারি সারি টিনের ছাউনি দেওয়া ঘর বানিয়ে বেশ কিছু পরিবার বসবাস করছিল। আজ বেলা ১১টা নাগাদ আচমকাই পাহাড়ের একটি বড় অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সামিয়াদের ঘরের ওপর। মাটির তীব্র চাপে ঘরটির চালা দেবে যায় এবং দেয়ালের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। মাটির নিচে সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায় ১৩ বছরের সামিয়া। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীরা এসে মাটি সরিয়ে তার নিথর দেহ উদ্ধার করেন। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।
সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলের কয়েক গজ দূরেই একটি বহুতল ভবন রয়েছে। আর তার ঠিক পাশেই পাহাড়ের বিপজ্জনক ঢালে ছিল সামিয়াদের ঘরটি। বর্তমানে সেই ঘরটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদামাটি ঘরের এক পাশ পুরোপুরি ঢেকে দিয়েছে। ঘরের পেছনের অংশটি এখনও হাঁটুসমান কাদায় ডুবে রয়েছে। সেই কাদা মাড়িয়েই উদ্ধারকাজ ও স্থানীয় মানুষের যাতায়াত চলছে। পাহাড়ের পাদদেশে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের জেরে এই দুর্ঘটনা ঘটল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

