বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বিদেশ

ওজন কমাতে গিয়ে প্রেমিকাকে ‘ভুলবশত’ খুন

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
ওজন কমাতে গিয়ে প্রেমিকাকে ‘ভুলবশত’ খুন
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ওজন কমাতে চেয়েছিলেন প্রেমিকা। মেদ ঝরিয়ে ছিপছিপে হওয়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য। আর সেই কাজে তাঁকে সাহায্য করতে গিয়েই ঘটল চরম বিপত্তি। অনিদ্রা বা ঘুমোতে না দিলে নাকি শরীরের ক্যালোরি দ্রুত ঝরে! এই আজব তত্ত্বে বিশ্বাস করে প্রেমিকাকে রাতে ঘুমোতে বাধা দিতে শুরু করেন প্রেমিক। আর ঘুমিয়ে পড়া আটকাতে তরুণীকে লাঠি ও রড দিয়ে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকেন তিনি। মারের চোটে এক সময় নিস্তেজ হয়ে পড়েন বছর তিরিশের ওই তরুণী। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে হংকংয়ের একটি ফ্ল্যাটে। দীর্ঘ চার বছর পর অবশেষে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে হংকংয়ের আদালতে। যেখানে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের অপরাধের স্বপক্ষে অদ্ভুত যুক্তি দিয়েছেন অভিযুক্ত তরুণ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম এনজি কা-সিং (২৯)। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে হংকংয়ের হাং শুই কিউ এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছিল। মৃত তরুণীর নাম ইপ তিজ-চিং। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। ঘটনার পর তরুণীর দেহ লোপাটের চেষ্টা করার সময় পুলিশ হাতেনাতে গ্রেফতার করে এনজি-কে। সম্প্রতি আদালতে শুনানির সময় সরকারি আইনজীবী অড্রে পারওয়ানি যুবকের জেরা পর্বের একটি ভিডিও পেশ করেন। সেখানেই উঠে আসে এই হাড়হিম করা কাণ্ড।
ভিডিওতে অভিযুক্ত তরুণ দাবি করেন, তিনি তাঁর প্রেমিকাকে ইচ্ছাকৃতভাবে খুন করেননি, যা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ‘ভুলবশত’। আদালতের সামনে এনজি দাবি করেন, তাঁর প্রেমিকা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং দ্রুত ওজন কমাতে চাইছিলেন। কোনো এক পরিচিতের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে, রাতে না ঘুমোলে শরীর থেকে দ্রুত মেদ ঝরে যায়। তাই প্রেমিকাকে রোগা করতে সাহায্য করার জন্য তিনি টানা ১০ দিন ধরে তাঁকে রাতে ঘুমোতে দেননি।
অভিযুক্তের দাবি, ঘটনার রাতে রাত ১০টা থেকে শুরু করে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তিনি তরুণীকে ঘুমোতে বাধা দেন। তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব কাটানোর জন্য তিনি একটি রড ও লাঠি দিয়ে তরুণীর শরীরে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকেন। এক সময়ে তরুণী যন্ত্রণায় চিৎকার করে জানান যে তিনি হয়তো আর বাঁচবেন না। এর কিছুক্ষণ পরেই কোমার চলে যান ওই তরুণী এবং ফ্ল্যাটের ভেতরেই তাঁর মৃত্যু হয়। শুধু তাই নয়, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে তরুণীর শরীরের ৫৫ শতাংশ অংশ অ্যাসিড বা কোনো রাসায়নিক তরলে পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, মাথায় গুরুতর আঘাত এবং শ্বাসনালী অবরুদ্ধ হয়ে দমবন্ধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
ঘটনার পরের দিন সকালে অভিযুক্ত যুবক প্রেমিকার নিথর দেহ একটি প্লাস্টিকের চাদর ও কম্বলে মুড়ে ট্রলিতে করে থানার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক প্রাতর্ভ্রমণকারী ট্রলি থেকে একটি পা ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেন। এরপরই পুলিশ এসে তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং এনজি-কে গ্রেফতার করে।