বিদেশ
রাশিয়ার তেল কিনলে ১০০% শুল্কের খাঁড়া
প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইউক্রেন যুদ্ধের আবহেই এবার ভারতের উপর চাপ বাড়াল আমেরিকা। রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির ‘শাস্তি’ হিসেবে ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে ওয়াশিংটনে। সম্প্রতি মার্কিন সেনেটে এই সংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর হচ্ছে।
বিলের শর্ত অনুযায়ী, রাশিয়ার থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির তালিকায় শীর্ষে থাকা প্রথম পাঁচটি দেশের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এই তালিকায় ভারতের সঙ্গেই রয়েছে চীন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়া। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, এই বিল পুরোদমে আইনে পরিণত হলে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় রফতানি বাণিজ্য বড়সড় ধাক্কা খাবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মস্কোর উপর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে পশ্চিমী দুনিয়া। তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন এবং সস্তা দরের কথা মাথায় রেখে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেনি ভারত। উল্টে গত কয়েক বছরে ক্রেমলিনের থেকে অশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। ওয়াশিংটন বারবার ভারতকে এই পথ থেকে সরে আসার জন্য কূটনৈতিক চাপ দিলেও, ভারত বরাবরই নিজের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে সরাসরি বার্তা দিতে চাইছে। ট্রাম্প এর আগেও বহুবার ভারতীয় শুল্ক নীতির সমালোচনা করেছেন। এবার রাশিয়ার অজুহাতে ভারতীয় পণ্যের বাজারকে নিশানা করার আইনি অস্ত্র পেয়ে গেলেন তিনি। আমেরিকার বাজারে ভারতীয় বস্ত্র, ওষুধ এবং রত্ন রফতানি অত্যন্ত লাভজনক। সেখানে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসলে ভারতীয় অর্থনীতিতে তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তবে নয়াদিল্লি এখনই এই চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পাল্টা জবাব কীভাবে দেওয়া যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সাউথ ব্লকে আলোচনা শুরু হয়েছে।

