বিদেশ
‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই’, মন্তব্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিকে নিজেদের বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দাবি করছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আন্তর্জাতিক মহলে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হলো ইসলামাবাদকে। খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের [JD Vance] একটি বিস্ফোরক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে চাপ বাড়ল পাকিস্তানের ওপর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট সরাসরি দাবি করেছেন, পাকিস্তানে ‘সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা’ (Press Freedom) না থাকার কারণেই এই শান্তি চুক্তির সমঝোতাপত্র (MoU) প্রকাশে অনেকটা বিলম্ব হয়েছে।
ভান্স অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পাকিস্তান বা কাতারের শাসনব্যবস্থায় আমেরিকার মতো ‘ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট’ বা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা নেই। ফলে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তিপত্র সহজে প্রকাশ্যে এনে তা নিয়ে সাধারণ জনগণের চুলচেরা বিশ্লেষণের সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতিও তাদের শাসনতন্ত্রে অনুপস্থিত।” মার্কিন প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্তার এমন খোলামেলা সমালোচনা যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের বাস্তব চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শান্তি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার যে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিল, ভান্সের এই একটি মন্তব্যেই তাতে জল পড়ে গেল। ওয়াশিংটনের এই কড়া বার্তা বুঝিয়ে দিল যে, ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষিতে অংশ নিলেও বাক-স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের মাপকাঠিতে পাকিস্তান এখনো অনেক পিছিয়ে। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

