বিদেশ
জিন্নার রোগ গোপন রাখায় মরণোত্তর সম্মান পাচ্ছেন দুই ভারতীয় চিকিৎসক
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশভাগের ইতিহাসের সুগভীর রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভারতের দুই প্রখ্যাত চিকিৎসককে অবশেষে মরণোত্তর সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান দিতে চলেছে পাকিস্তান। অবিভক্ত ভারতের তৎকালীন বোম্বাইয়ের (অধুনা মুম্বই) দুই পার্সি চিকিৎসক— ড. জল রতনজি প্যাটেল এবং প্রখ্যাত রেডিওলজিস্ট ড. জল ধায়ভো-কু-কে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নার প্রাণঘাতী যক্ষ্মা রোগের খবর সম্পূর্ণ গোপন রাখার অনন্য নজিরের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের এই সম্মান প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ।
সম্প্রতি পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পুরস্কার সংক্রান্ত কমিটির প্রধান আহসান ইকবাল নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এই বড় ঘোষণাটি করেছেন। তিনি জানান, এই দুই ভারতীয় চিকিৎসককে তাঁদের ‘নীরব কিন্তু অসাধারণ অবদানের’ জন্য পাকিস্তানের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’-এ ভূষিত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
ইতিহাসের খতিয়ান থেকে জানা যায়, দেশভাগের ঠিক আগের বছর, অর্থাৎ ১৯৪৬ সালে ড. প্যাটেল ও ড. ধায়ভো-কু জিন্নার বুকের এক্স-রে পরীক্ষা করেছিলেন। সেই পরীক্ষার রিপোর্টেই ধরা পড়ে যে, জিন্নার ফুসফুসে যক্ষ্মা রোগটি অত্যন্ত মারাত্মক ও শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে এবং তাঁর আয়ু বড়জোর আর এক থেকে দু’বছর। চিকিৎসকদের পেশাগত কঠোর গোপনীয়তার নীতি (মেডিক্যাল এথিক্স) মেনে জিন্নার এই দূরারোগ্য ব্যাধির খবর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিলেন তাঁরা।
ঐতিহাসিকদের মতে, জিন্নার এই অসুস্থতার খবর যদি তৎকালীন সময়ে জানাজানি হয়ে যেত, তবে ভারত বিভাজন এবং পাকিস্তান সৃষ্টির রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হয়তো সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারত। কিন্তু দুই চিকিৎসকের এই সততা ও গোপনীয়তা বজায় রাখার ফলেই পাকিস্তানের জন্ম সম্ভব হয়েছিল বলে মনে করে সে দেশের প্রশাসন। জিন্নার মৃত্যুর ৭৮ বছর পর, ২০২৭ সালের মার্চ মাসে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দুই প্রয়াত ভারতীয় চিকিৎসকের পরিবারকে মরণোত্তর এই অনন্য সম্মান আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হবে।

