বিদেশ
৪০ বছর পর নিউজিল্যান্ডে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী, ইতিহাস তৈরি করলেন মোদী
প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘ চার দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী থাকল ওশেনিয়া মহাদেশের দ্বীপরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড। দীর্ঘ ৪০ বছর পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পা রাখলেন নরেন্দ্র মোদী। শনিবার তাঁর এই ঐতিহাসিক সফরের শেষ দিনে অকল্যান্ডে প্রবাসী ভারতীয়দের একটি বর্ণাঢ্য মহাসমাবেশে যোগ দেন তিনি। সেখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বার্তা দেন, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ভবিষ্যৎ আসলে পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে এই সমাবেশটি এক অনন্য মাত্রা পায়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী দিনে প্রযুক্তি, বাণিজ্য, মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে ক্রীড়া ক্ষেত্র— প্রতিটি স্তরেই দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। মোদীর এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন।
প্রবাসী ভারতীয়দের উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে মোদীকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান লাক্সন। দরাজ গলায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ নিউজিল্যান্ড এক নতুন ইতিহাস তৈরি করল। গত ৪০ বছরে এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দাঁড়ালেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী, আমি নিউজিল্যান্ডের ৫০ লক্ষ মানুষের তরফ থেকে বলতে পারি— আপনার জন্য এই দীর্ঘ অপেক্ষা আজ সম্পূর্ণ সার্থক।”
কূটনৈতিক মহলের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের আবহে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই নিউজিল্যান্ড সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শুধু বাণিজ্যিক আদানপ্রদানই নয়, বরং শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও এই সফর আগামী দিনে বড় ভূমিকা নেবে। ৪০ বছর আগে রাজীব গান্ধীর সফরের পর, দুই দেশের সম্পর্কে যে দীর্ঘ শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, মোদীর এই সফরের মাধ্যমে তা কেটে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

