দৌলতদিয়া যৌনপল্লী: জানুন অজানা কথা
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং বাংলাদেশের অন্যতম অনুমোদিত যৌনপল্লী রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় প্রতিদিন কোটি টাকার অবৈধ ও বৈধ বাণিজ্য চলছে। ১৯৮৮ সালে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার কথা বলা হলেও, এই অঞ্চলে পতিতাবৃত্তির ইতিহাস দীর্ঘ বহু বছরের। বর্তমানে এটি দেশের সবচেয়ে আলোচিত এবং সর্ববৃহৎ পতিতালয় হিসেবে পরিচিত।
হিসাব অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দৌলতদিয়া পতিতালয়ে প্রায় দেড় হাজার নিবন্ধিত যৌনকর্মী স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তবে এখানে কর্মরত যৌনকর্মীদের অধিকার ও কল্যানে নিয়োজিত রেজিস্টার্ড সংগঠন ‘মুক্তি মহিলা সমিতি’র দাবি, বাস্তবে এই পল্লীতে পতিতার সংখ্যা প্রায় চার হাজার। প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন হাজার গ্রাহক যৌন সেবা নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে আসেন।
জানা গেছে, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর পুরো নিয়ন্ত্রণ রয়েছে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন ‘সর্দারনী’ বা বাড়িওয়ালীর হাতে। একেকজন সর্দারনীর অধীনে সর্বনিম্ন ৫ জন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ জন পর্যন্ত যৌনকর্মী কাজ করেন। এই সর্দারনীদের দৈনিক আয় সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। একজন সাধারণ সর্দারনীর প্রতিদিনের সর্বনিম্ন আয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, এখানকার প্রভাবশালী ও অবস্থাশালী বাড়িওয়ালীদের দৈনিক আনুমানিক আয় ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। বহুকাল ধরে চলে আসা এই পল্লীকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশাল অঙ্কের টাকার লেনদেন চললেও, এখানকার অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রায়শই নানা আলোচনার জন্ম দেয়।

