বিদেশ
'শুধু ভারতীয় ও মার্কিনীরা থাকতে পারবেন’, আমিরশাহীর হোটেলে ঘর না পেয়ে ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের প্রাক্তন স্পিকার
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (ইউএই) একটি হোটেলে গিয়ে চরম ‘অপমান’ ও বৈষম্যের শিকার হলেন পাকিস্তানের সংসদ সদস্য (এমপি) তথা সেদেশের জাতীয় পরিষদের প্রাক্তন স্পিকার আসাদ কাইসার (Asad Qaiser)। তাঁর অভিযোগ, বিমান বাতিল হওয়ার পর আমিরশাহীর একটি হোটেলে থাকার জন্য ঘর চাইলে কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাফ জানিয়ে দেয়, সেখানে পাকিস্তানিদের থাকার অনুমতি নেই। ওই হোটেলে থাকার অধিকার রয়েছে শুধু ভারতীয় এবং মার্কিন পাসপোর্টধারীদের। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পাকিস্তানের এই প্রবীণ রাজনীতিক।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সংসদে ভাষণ দেওয়ার সময় আসাদ কাইসার তাঁর এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দিনকয়েক আগে তিনি আমিরশাহীতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ তাঁর বিমান বাতিল হয়ে যাওয়ায় তিনি একটি হোটেলে আশ্রয় খোঁজেন। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষের আচরণ ছিল অত্যন্ত আপত্তিকর ও বৈষম্যমূলক। কাইসারের কথায়, “আমরা যেহেতু পাকিস্তানি, তাই আমাদের প্রতি তাদের মনোভাব মোটেও ভালো ছিল না। হোটেল থেকে স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়, কেবল ভারতীয় এবং মার্কিন পাসপোর্টধারীদেরই থাকার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ পাকিস্তানিদের সেখানে কোনো প্রবেশাধিকার নেই।”
পাকিস্তানের সংসদে দাঁড়িয়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কাইসার একে “অত্যন্ত অনুচিত” বলে আখ্যা দেন। তিনি পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কূটনৈতিক স্তরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
কাইসার আরও মনে করিয়ে দেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উন্নয়নে পাকিস্তানি নাগরিকদের বিরাট অবদান রয়েছে এবং তারা আমিরশাহীকে একটি ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবেই দেখে। তাই এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

