বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বিদেশ

স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করছে সুইডেন 

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬
স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করছে সুইডেন 
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে যে দেশটি বিশ্বের প্রথম সারিতে থাকে, সেই সুইডেন এবার এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ (অ্যাকাডেমিক সেশন) থেকেই দেশের সমস্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে পড়ুয়াদের স্মার্টফোন নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ ‘নিষিদ্ধ’ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সাফ বক্তব্য, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং ক্লাসরুমে স্মার্টফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের মান এবং মনোযোগের চরম ক্ষতি করেছে। তাই আধুনিক ডিজিটাল পরিকাঠামো থেকে কিছুটা সরে এসে তারা আবার বই-খাতা-পেন্সিলের সাবেক ও ঐতিহ্যবাহী বন্দোবস্তে ফিরে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? সুইডেনের শিক্ষা মন্ত্রক এবং গবেষকদের একাংশের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ডিজিটাল ডিভাইসের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ছোট ছেলেমেয়েদের সাধারণ পড়া, লেখা এবং চিন্তা করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ক্লাসরুমে মন দেওয়ার চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও গেমসের প্রতি আসক্তি বেশি তৈরি হচ্ছে। সুইডেনের শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে, "গবেষণায় স্পষ্ট যে স্ক্রিনের চেয়ে কাগজের বই দেখে পড়া এবং হাতে কলমে লেখার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে অনেক বেশি সাহায্য করে।" এই কারণেই 'ব্যাক-টু-বুকস' (বইয়ে প্রত্যাবর্তন) স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত।
কীভাবে কার্যকর হবে এই নিয়ম? নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী সমস্ত স্কুল শিক্ষার্থীকে সকালে ক্লাসে ঢোকার সময়েই তাদের মোবাইল ফোনটি জমা দিয়ে দিতে হবে। প্রতিটি স্কুলে তৈরি হচ্ছে 'মোবাইল হোটেল' বা বিশেষ লক-বক্স, যেখানে ফোনগুলি সারাদিন সুরক্ষিত থাকবে। শুধু ক্লাস চলাকালীনই নয়, টিফিনের সময় বা স্কুলের অবসর সময়েও ফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। ছুটি হওয়ার পর বাড়ি ফেরার সময়েই কেবল পড়ুয়ারা তাদের ফোন ফেরত পাবে।
শুধুমাত্র মুখের কথায় বা নিষেধাজ্ঞায় আটকে না থেকে, সুইডিশ সরকার এই সাবেক শিক্ষাপদ্ধতিকে বাস্তবায়িত করতে বড় পদক্ষেপ করেছে। ক্লাসরুমে ট্যাবলয়েড বা ল্যাপটপের জায়গা পূরণ করতে কাগজের টেক্সটবুক এবং শিক্ষকদের গাইড বই কেনার জন্য সরকার ইতিমধ্যেই ৫৫৫ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করেছে। ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য তো যেকোনো ধরণের ডিজিটাল উপাদান আগেই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সুইডেনের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে এক নতুন ডিজিটাল ভাবনার জন্ম দিল। ইউনেস্কোর (UNESCO) সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের প্রায় ১১৪টি শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই কোনো না কোনোভাবে স্কুলের ভেতর মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির দেশ সুইডেনের এই ‘ইউ-টার্ন’ অন্যান্য দেশগুলিকেও তাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।