কেন সর্বদাই অখুশি?
একজন অন্ধ বিখ্যাত মানুষকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তুমি চোখে দেখতে পাও না বলে কি হতাশা বোধ করো? তার উত্তর ছিল - কখনোই না। পৃথিবী আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। কিন্তু আমরা তাকে কি-ই বা ফিরিয়ে দিতে পারি? খুব কম। তবুও পৃথিবী আমাদের অনেক অনেক দিয়েই চলেছে। এর চেয়ে বেশি আশা করাটাই বোধহয় ভুল। এর চেয়ে আরো বেশি চাওয়ার আমাদের কি কোন অধিকার আছে? এইটুকু মনে রাখতে পারলেই আমরা সুখী হবো। উল্লেখ্য, এই মানুষটি তার প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে জীবনে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছিলেন। আমাদের অসন্তোষ ও চাওয়ার শেষ নেই। আমরা সর্বদা যেন অখুশি। কিন্তু যদি একবার ভালো করে ভেবে দেখি, তাহলে দেখব আমাদের অনেক আশেপাশের মানুষের চেয়ে আমরা ভাগ্যবান। যদি আমরা দুর্বলতাগুলি জয় করে আমাদের ইতিবাচক গুণগুলিকে শক্ত করে গড়ে তুলতে পারি, তবে আমরা আমাদের জীবনকে সুখী ও অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারি। আমাদের সঙ্গে কেউ যখন খারাপ ব্যবহার করে, ঔদ্ধত্যপ্রকাশ করে, এবং আমাদের প্রবঞ্চিত করার চেষ্টা করে তখন তার ওপর স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বিরক্তিবোধ হয়। মিথ্যে রটনা, অভিযোগ ও নিন্দা ক্রোধের দিকে আমাদের ঠেলে দেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব থেকেও বিরোধিতা ও ঘৃণার উদ্রেক হয়। যখন তোমার সদিচ্ছা লোকে বুঝতে পারে না, তোমাকে ঠকায় তখন স্বাভাবিকভাবেই তুমি মনের দিক থেকে আহত হও এবং তোমার প্রতিশোধ স্পৃহা জাগে। কিন্তু মহাত্মাগণ বলে থাকেন, ভালোবাসা দিয়ে প্রতিশোধ স্পৃহা জয় করো। ধর্ম ও ভক্তি অন্তরকে পবিত্র করে, মানুষে মানুষে সম্পর্কের উন্নতি করে। যদি আমরা নিষ্ঠা সহকারে প্রার্থনা করি তবে আমরা ঘৃণা ও হিংসার গোলকধাঁধা থেকে উদ্ধার পাব। একথা বলা হয় যে, যুদ্ধ প্রথমে শুরু হয় মনের মধ্যে, তারপর যুদ্ধক্ষেত্রে। যুদ্ধের সূত্রপাত হয় ভালবাসার অভাব থেকে। ঘৃণার একটি স্ফুলিঙ্গ হৃদয় দগ্ধ করে দিতে পারে। তা মানসিক অস্থিরতা, দ্বেষ ও অসন্তোষের আগুনকেও উসকে দেয়। ক্রোধই সেখানে প্রভুত্ব করে। মানুষ তখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তোমরা কি শুনেছো—কামধেনু সর্বদা যে দুধ দেয় সে কি দোহনকারীকে কখনো লাথি মেরেছে? মাছেদের অসুবিধা সৃষ্টি করতে সমুদ্র কি কখনো শুকিয়ে গেছে? বাতাস কি কখনো পাখিদের ক্ষতি করার জন্য বন্ধ হয়েছে? মানুষের এতসব নিষ্ঠুরতা দেখেও সূর্য কি তার উদয় হওয়া বন্ধ রেখেছে? প্রকৃতি মাতার মধ্যে আছে অফুরন্ত ভালবাসা। তিনিই আমাদের স্বার্থশূন্য পবিত্র ভালবাসা কাকে বলে তা দেখিয়ে দিচ্ছেন। সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে এটিই তার বাণী।

