বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
দেশ

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সহবাস, ‘ধর্ষণ’ নয়

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সহবাস, ‘ধর্ষণ’ নয়
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সহবাসের পর বিয়ে না হওয়ায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করার প্রবণতা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, প্রাপ্তবয়স্ক দুই নারী-পুরুষের দীর্ঘদিনের সম্মতির ভিত্তিতে চলা শারীরিক সম্পর্ককে শুধুমাত্র বিয়ে না হওয়ার অজুহাতে কোনোভাবেই ‘ধর্ষণ’ বলা যাবে না। কারণ এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে দু'পক্ষের পূর্ণ সম্মতি থাকে। সম্পর্কে ভাঙন ধরলে বা তা পূর্ণতা না পেলে ধর্ষণের অভিযোগ আনা আদতে আইনের অপব্যবহার।

সম্প্রতি বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ সঞ্জয় কুমার নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে চলা ধর্ষণের মামলার সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া খারিজ করে এই ঐতিহাসিক রায় দেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়াগরাজের এক যুবতী ওই যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচ বছর ধরে সহবাস এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন।
মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে ৩৪ পাতার বিস্তারিত রায়ে বিচারপতি জানান, সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পূর্বতন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসকে তখনই ধর্ষণ বলা যাবে, যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযুক্তের বিয়ের প্রতিশ্রুতিটি প্রথম থেকেই সম্পূর্ণ মিথ্যে ও প্রতারণামূলক ছিল। কিন্তু এই মামলায় দেখা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর ধরে দু'জনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিবিড় শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাই প্রতিবারই কেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতির কারণেই যুবতী সম্মতি দিয়েছিলেন, তা মেনে নেওয়া কঠিন।
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, শিক্ষিত ও স্বাধীনচেতা প্রাপ্তবয়স্কদের বোঝা উচিত যে প্রতিটি প্রেমের সম্পর্কই বিয়েতে পরিণত হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। ব্যক্তিগত অমিল বা পরিস্থিতির কারণে যেকোনো সম্পর্ক ভাঙতেই পারে। কিন্তু সম্পর্ক তিক্ত হলেই তাকে অপরাধের তকমা দিয়ে ফৌজদারি আইনের দ্বারস্থ হওয়া মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়। এই মামলায় যুবতী ক্ষোভের বশে এবং বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে। যা বিচারপ্রক্রিয়ার অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়। হাই কোর্টের এই তাৎপর্যপূর্ণ রায় দেশের আইনি ও সামাজিক পরিমণ্ডলে এক নতুন নজির তৈরি করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।