দেশ
অমরনাথে রেকর্ড সেনা, দুর্ভেদ্য কাশ্মীর উপত্যকা
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী ৩ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে বছরের বহু প্রতীক্ষিত অমরনাথ যাত্রা। আর বাবা বরফানির পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। উপত্যকার ইতিহাসে সমস্ত রেকর্ড ভেঙে এবার মোতায়েন করা হচ্ছে ৬৭০ কোম্পানিরও বেশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ)। যাত্রার ইতিহাসে এর আগে কোনওদিন এত বিপুল সংখ্যায় আধাসেনা মোতায়েন করা হয়নি। মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামীকাল থেকেই কাশ্মীর জুড়ে সেনা মোতায়েনের কাজ শুরু হয়ে যাবে।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, জঙ্গি নাশকতার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে এবার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় বা ‘ত্রিলোক’ চক্রব্যূহ তৈরি করা হচ্ছে। বালতাল এবং পহেলগাম— দু'টি যাত্রাপথেই জল-স্থল-আকাশ জুড়ে নজরদারি চালানো হবে। তবে এই বিপুল পরিমাণ আধা সামরিক বাহিনীর কাজ শুধুমাত্র উপত্যকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা আঁটসাঁট নিরাপত্তা বজায় রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুর্গম পাহাড়ি পথে পুণ্যার্থীদের যাতায়াত মসৃণ করা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা যাতে সুষ্ঠুভাবে করা যায়, সেদিকেও কড়া নজর রাখবে এই বাহিনী।
শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ড জানিয়েছে, এ বছর টানা ৫৭ দিন ধরে চলবে এই পবিত্র তীর্থযাত্রা। আগামী ২৮ অগস্ট রাখি পূর্ণিমার দিন এই যাত্রার সমাপ্তি ঘটবে। ইতিমধ্যেই সাড়ে ৩ লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থী নাম নথিভুক্ত করেছেন। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষার জন্য এবার পুরো রুটকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রতিটি ক্যাম্পে ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা ও ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি পাহাড়ি বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দলও মোতায়েন থাকছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, পুণ্যার্থীদের জন্য ‘জিরো ক্যাজুয়ালটি’ নীতি নিয়ে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন, যাতে প্রতিটি মানুষ নিরাপদে দর্শন সেরে ফিরতে পারেন।

