বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
দেশ

শুরু হলো অম্বুবাচী মহাযোগ, কামাখ্যা থেকে তারাপীঠে চার দিন ধরে বন্ধ গর্ভগৃহ

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬
শুরু হলো অম্বুবাচী মহাযোগ, কামাখ্যা থেকে তারাপীঠে চার দিন ধরে বন্ধ গর্ভগৃহ
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: "কিসের বার কিসের তিথি, আষাঢ়ের সাত তারিখ অম্বুবাচী।" লোকবিশ্বাসের এই চিরাচরিত ছড়াকে সত্যি করে চলতি বছরেও শুরু হয়ে গেল সনাতন ধর্মের অন্যতম প্রধান উৎসব অম্বুবাচী মহাযোগ। হিন্দু শাস্ত্র ও প্রাচীন লোকসংস্কৃতি অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের মৃগশিরা নক্ষত্রের সংযোগে এই বিশেষ সময়ে ধরিত্রী মা রজঃস্বলা হন। সোমবার, ২২ জুন (৭ আষাঢ়) রাত থেকে শুরু হয়েছে অম্বুবাচীর পবিত্র সময়সীমা। ধরিত্রীকে মাতৃরূপে কল্পনা করে আগামী চার দিন ধরে দেশজুড়ে চলবে প্রকৃতির এই আদিম শক্তির আরাধনা।

পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অম্বুবাচী উৎসবের নির্ঘণ্ট:
অম্বুবাচী প্রবৃত্তি (শুরু): ২২ জুন, ২০২৬ (৭ আষাঢ়, সোমবার) রাত ৯টা ৮ মিনিটে।
অম্বুবাচী নিবৃত্তি (শেষ): ২৬ জুন, ২০২৬ (১১ আষাঢ়, শুক্রবার)।
অম্বুবাচী উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো অসমের গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দির। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিন দিন দেবী কামাখ্যা ঋতুমতী হন। সোমবার রাত থেকেই মন্দিরের মূল গর্ভগৃহের দরজা ভক্তদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২৬ জুন নিবৃত্তির পর দেবীর বিশেষ স্নান ও পূজার্চনা শেষে পুনরায় ভক্তরা দেবী দর্শনের সুযোগ পাবেন। কামাখ্যা ছাড়াও বাংলার তারাপীঠ, কালীঘাট, কঙ্কালীতলা-সহ বিভিন্ন সতীপীঠ ও মঠ-মন্দিরে অম্বুবাচী উপলক্ষে বিশেষ যোগ ও সাধু-সন্ন্যাসীদের ভিড় জমেছে। তারাপীঠে এই চার দিন মা তারাকে মূল শিলামূর্তির পরিবর্তে কেবল মাত্র ঘটের মাধ্যমে পূজা করা হচ্ছে।
সনাতন ধর্মে এই তিন দিন ভূমি বা ধরিত্রীকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। লোকচার অনুযায়ী, অম্বুবাচীর দিনগুলোতে জমিতে কোনো ধরনের খনন কাজ, চাষাবাদ, লাঙল চালানো বা গাছ পোঁতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। গৃহস্থের ঘরে এই সময়ে কোনো মাঙ্গলিক কাজ যেমন— বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, উপনয়ন বা নতুন ব্যবসা শুরু করা হয় না। এছাড়া, অম্বুবাচীর তিন দিন গৃহদেবতার মূর্তি বা ছবি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার চল রয়েছে, এই সময়ে কেবল মাত্র মানসিক পূজা ও জপ করা যায়।
এই উৎসবের দিনগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও বিশেষ করে বিধবা মহিলারা তিন দিন ধরে কোনো ধরনের উনুন ধরানো বা রান্না করা খাবার আহার করেন না। এই সময় মূলত ফলমূল, ছাতু, দুধ, দই এবং মিষ্টি খেয়ে ব্রত পালন করা হয়, যাকে লোকভাষায় 'ফলার' বা 'অ ফলা' বলা হয়। ২৬ জুন শুক্রবার নিবৃত্তি ঘটার পর ধরিত্রী মায়ের শুদ্ধিকরণের সাথে সাথে গৃহস্থরা দেবীর আসন পরিষ্কার করবেন এবং আম, দুধ, কাঁঠাল ইত্যাদি ফল দিয়ে ব্রত ভঙ্গ করবেন।