দেশ
অন্ধ্রপ্রদেশে খোঁজ মিলল ৫০ টন সোনার খনির, বড়সড় বদল ভারতের সোনা উৎপাদনে
প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬
বিশেষ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন: ভারতের অভ্যন্তরীণ সোনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে চলেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলার জোন্নাগিরি গ্রামে আনুমানিক ৫০ টন (৫০,০০০ কেজি) সোনার বিশাল খনি ভাণ্ডারের সন্ধান মিলেছে। ২০০০ সালে কর্নাটকের আইকনিক কোলার গোল্ড ফিল্ডস বা ‘কেজিএফ’ (Kolar Gold Fields) বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে দেশের সোনা উৎপাদন কার্যত অত্যন্ত সীমিত এবং ধুঁকছিল। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর এই নতুন আবিষ্কার ভারতের খনিজ মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে।
জিওমাইসোর সার্ভিসেস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড (Geomysore Services India Private Limited)-এর উদ্যোগে এই ‘জোন্নাগিরি গোল্ড প্রজেক্ট’ সফলভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ৪০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে তৈরি ৫৯৮ হেক্টর বিস্তৃত এই খনিটি স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বৃহৎ বেসরকারি সোনা খনন প্রকল্প।
ওপেন-পিট বা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে পরিচালিত এই খনিটি পূর্ণ মাত্রায় সচল হলে আগামী ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর প্রায় ৮০০ থেকে ১,০০০ কিলোগ্রাম (১ টন) পরিশোধিত সোনা উৎপাদন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে চলেছেন।
ভারত প্রতি বছর প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টন সোনা বিশ্ববাজার থেকে আমদানি করে। এই বিপুল চাহিদার তুলনায় দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ছিল নামমাত্র (বছরে মাত্র ১.৫ টনের মতো, যা মূলত কর্নাটকের হট্টি খনি থেকে আসে)। নতুন এই খনি ভারতের আকাশছোঁয়া সোনা আমদানির খরচ এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমাতে সাহায্য করবে।
খনি বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, এই ৫০ টন সোনার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭,৫০০ কোটি টাকা থেকে ৯,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। তবে মাটির তলা থেকে সোনা উত্তোলনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং আকরিকের মান অনুযায়ী খরচসাপেক্ষ।

