দেশ
লাইসেন্স দুর্নীতি রুখতে কড়া নিয়ম আসামে
প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: পরিবহন দফতরের অন্দরে চলা দুর্নীতির জাল ভাঙতে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স বিলির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে বড়সড় নিয়মের পরিবর্তন করতে চলেছে আসাম সরকার। ২৬ জুন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী চরণ বড়ো দপ্তরের এই নতুন ও কঠোর নিয়মগুলির কথা ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা দালাল রাজের দাপট খতম করতেই রাজ্য সরকারের এই কড়া পদক্ষেপ।
অভিযোগ উঠছিল, সাধারণ মানুষ মাসের পর মাস পরিবহন দপ্তরে চক্কর কেটেও বৈধ লাইসেন্স পাচ্ছেন না। অথচ একশ্রেণীর দালাল চক্রের মাধ্যমে মোটা টাকার বিনিময়ে অনেকে দপ্তরে না গিয়েই অবৈধ উপায়ে মাত্র একদিনে লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছেন। এই অনিয়ম ও হয়রানি রুখতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। মন্ত্রী চরণ বড়ো স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন নিয়মে লাইসেন্স পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর এবং স্বচ্ছ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে আর কোনও দালালের শরণাপন্ন হতে না হয়।
পরিবহন দফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার থেকে ড্রাইভিং টেস্ট এবং নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি চালানো হবে। সমস্ত প্রক্রিয়া ডিজিটাল মাধ্যমে এমনভাবে চালিত হবে যেখানে মানুষের হস্তক্ষেপ যতটা সম্ভব কমানো যায়। এর ফলে দালালদের প্রভাব যেমন কমবে, তেমনই বন্ধ হবে টাকার বিনিময়ে ভুয়ো লাইসেন্স দেওয়ার কারবার। সৎ পথে চলা আবেদনকারীরা যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের লাইসেন্স হাতে পান, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।
এই নতুন নিয়ম ঘোষণার পর রাজ্যের পরিবহন মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই কড়া সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। তাঁদের আশা, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের হয়রানির অবসান ঘটবে। পরিবহন মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনও রকম অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না এবং দুর্নীতিতে যুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

