দেশ
অসমের জোরহাটে অবতরণের সময় ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার বিমান, ৫ জওয়ানের মৃত্যু
প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ অসমের জোরহাটে রৌরিয়া সেনাঘাঁটিতে অবতরণের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর (IAF) একটি এএন-৩২ (AN-32) পরিবহন বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। শনিবার সকালে রানিং স্ট্রিপ বা রানওয়েতে নামার পরপরই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে তাতে বিধ্বংসী আগুন ধরে যায়। এই অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানে কর্তব্যরত ৫ জন বায়ুসেনা কর্মী শহিদ হয়েছেন।
জানা গিয়েছে, ৪৩ স্কোয়াড্রনের এই বিমানটি মূলত মালামাল পরিবহনের (কার্গো) কাজে নিয়োজিত ছিল। জোরহাট বিমানঘাঁটিতে স্বাভাবিক অবতরণের সময় হঠাৎই এটি মূল রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে পাশের ঘাসজমিতে আছড়ে পড়ে।
আছড়ে পড়ার তীব্র আঘাতে বিমানটি মাঝখান থেকে দুই টুকরো হয়ে যায় এবং দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। প্রাথমিক রিপোর্টে পাইলটদের নিখোঁজ বা মৃত্যুর আশঙ্কা করা হলেও পরবর্তীতে বিমানবাহিনী নিশ্চিত করে যে, দুর্ঘটনায় ৫ জন জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিমানে থাকা সহ-পাইলট গুরুতর আহত অবস্থায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছেন। বর্তমানে সেনা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। কর্তব্যরত অবস্থায় দেশের জন্য সর্বোচ্চ বলিদান দেওয়া ৫ বীর শহিদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
১. স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং ২. ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার ৩. সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা ৪. অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত ৫. অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম
তদন্তের নির্দেশ
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রৌরিয়া বিমানঘাঁটির দমকল ও জরুরি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিমানবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি আবহাওয়াগত সমস্যা ছিল—তা খতিয়ে দেখতে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের কোর্ট অফ ইনকোয়ারি (তদন্ত কমিটি) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

