বেঙ্গালুরু ট্রিপল মার্ডার কেসে সিনেমার কায়দায় গ্রেফতার দ্বিতীয় অভিযুক্ত
নিজস্ব প্রতিনিধি: বেঙ্গালুরুর সিগেহাল্লি ট্রিপল মার্ডার বা একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। মূল অভিযুক্ত তরুণী শ্বেতার লিভ-ইন পার্টনার তথা এই হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় প্রধান অভিযুক্ত ২৫ বছর বয়সী কেনেথকে পুদুচেরি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, জেরার মুখে ধৃতরা শ্বেতার বাবা সোমাসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং ছোট বোন সুপ্রিয়াকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার কথা কবুল করেছে।
পুরম থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিল মূল চক্রী শ্বেতা ও তার প্রেমিক কেনেথ।
ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে দু’জনে আলাদা আলাদা রুট দিয়ে পুদুচেরিতে এসে পৌঁছায়। গত ২৪ জুন শ্বেতাকে গ্রেফতার করার পর, তাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে কেনেথের লুকিয়ে থাকার নিশ্চিত ডেরা জানতে পারে পুলিশ।
জানা যায়, পুদুচেরি সৈকতের কাছের একটি বারে মদ্যপ অবস্থায় রয়েছে সে। এর পরেই বেঙ্গালুরু ও পুদুচেরি পুলিশের একটি যৌথ দল ওই বারটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে নজরদারি শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই পিছনের দরজা দিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে কেনেথ। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পুদুচেরি পুলিশের এএসআই রামালিঙ্গম সিনেমার কায়দায় প্রায় ২০০ মিটার তাড়া করে তাকে ধরে ফেলেন। তবে গ্রেফতারির শেষ মুহূর্তেও চরম প্রতিরোধ গড়ে তোলে ওই যুবক। সে আচমকাই পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি লাথি-ঘুষি ও আক্রমণ চালাতে শুরু করে, যার ফলে এএসআই রামালিঙ্গম-সহ বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন বলে খবর।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, পারিবারিক অশান্তির জেরে শ্বেতা প্রথমে শুধু তার মাকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু লিভ-ইন পার্টনার কেনেথের সঙ্গে হাত মেলানোর পর সেই চক্রান্তের রূপ বদলে যায়। কেনেথই তাকে প্ররোচনা দিয়ে গোটা পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি করে। সেই মতো অত্যন্ত নির্মমভাবে বাবা, মা ও বোন—তিনজনকেই খুন করে তারা। ধৃত শ্বেতাকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করে ১৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ট্রানজিট রিম্যান্ডে বেঙ্গালুরুতে এনে কেনেথকেও নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই খুনের নেপথ্যে থাকা বাকি রহস্যভেদে মরিয়া তদন্তকারীরা।

