দেশ
জাপানের আমের পর এবার চিনে নিষিদ্ধ ভারতীয় লাল লঙ্কা
প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০২৫ সাল থেকে মার্কিন চাপের মুখে পড়ে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিল। সেই চরম মন্দার বাজারে ভারতে উৎপাদিত কৃষিজ সামগ্রীই দেশের অর্থনীতিকে কিছুটা অক্সিজেন দিচ্ছিল। কিন্তু এবার এশিয়ার একাধিক দেশে ধাক্কা খেল ভারতের সেই কৃষি রফতানিও। দিন কয়েক আগেই জাপান ও নেপালে ভারতীয় আমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ি চাপানো হয়েছে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চিনে নিষিদ্ধ হল ভারতের লাল লঙ্কা ও লঙ্কার গুঁড়ো।
চিনের গবেষকদের দাবি, ভারত থেকে পাঠানো শুকনো লাল লঙ্কায় অতিরিক্ত মাত্রায় ‘মেটামাইডোফোস’ (Methamidophos) নামের এক ক্ষতিকর কীটনাকশকের অবশেষ মিলেছে, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। এই সুরক্ষাবিধির কারণ দেখিয়ে বেজিং ইতিমধ্যেই তিনটি ভারতীয় সংস্থার লঙ্কার রফতানি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর আগে মে মাসে ভারতীয় নন-বাসমতি চালের প্রায় ৭০টি কনসাইনমেন্টও ফেরত পাঠিয়েছিল চিন।
বিশ্ববাজারে শুকনো লাল লঙ্কা রফতানিতে ভারত এক নম্বরে রয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশই যায় চিনে। গত অর্থবর্ষে চিনে প্রায় ৩,৮৫৭ কোটি টাকার লঙ্কা রফতানি করা হয়েছিল। ফলে বেজিংয়ের এই কড়া পদক্ষেপের জেরে দেশের মসলা ব্যবসায়ীরা বড়সড় লোকসানের মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে, জাপানের পথ অনুসরণ করে প্রতিবেশী নেপালও ভারতীয় আমের ক্ষেত্রে রোগমুক্তির শংসাপত্র ও বিশেষ ‘হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট’ বাধ্যতামূলক করায় আম চাষিরাও চরম বিপাকে পড়েছেন। একের পর এক এশীয় দেশে ভারতীয় কৃষিপণ্যের এই ‘প্রত্যাখ্যান’ ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার কোনো নতুন বাণিজ্যিক রফাসূত্র বের করে কি না, এখন সেটাই দেখার।

