দেশ
মন্থর গতিতে বর্ষা, দেশজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি ৪০ শতাংশ
প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: চলতি বছরে দেশের সার্বিক আবহাওয়ায় বড়সড় উদ্বেগের মেঘ। দেশজুড়ে অত্যন্ত মন্থর গতিতে এগোচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জুনের মাঝামাঝি পার হয়ে গেলেও দেশের অর্ধেক অংশেও এখনও বর্ষা প্রবেশ করতে পারেনি। তবে বেশ কয়েকদিন এক জায়গায় থমকে থাকার পর, আগামী মঙ্গলবার নাগাদ দেশের আরও কিছু অংশে বর্ষার অগ্রগতি হতে পারে বলে আশার আলো দেখিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD)।
আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন মাসের ১৭ তারিখ পর্যন্ত দেশে গড়ে স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মধ্য ভারতে। সেখানে বৃষ্টির ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ ছুঁয়েছে। ফলে চাষাবাদের কাজে এর একটি বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জুনের প্রথমার্ধে বর্ষার এই ঝিমিয়ে পড়া পারফরম্যান্সে চিন্তায় পড়েছেন আবহাওয়াবিদ থেকে শুরু করে কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় স্তরে বর্ষার গতি মন্থর হলেও, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। এ রাজ্যে অবশ্য ক্যালেন্ডার মেনেই অনেকদিন আগে বর্ষা প্রবেশ করেছে। কিন্তু জেলাভিত্তিক বৃষ্টির বন্টনে রয়েছে বিস্তর ফারাক। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি বা কোচবিহারের মতো কিছু অংশে ইতিমধ্যেই প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জেরে বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গ ভাসলেও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির দেখা নেই বললেই চলে। বিক্ষিপ্ত দু-এক পশলা বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বজায় রয়েছে। আর এই কারণেই ২০ জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় ৫ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার থেকে বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ সহ ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের বাকি অংশে বর্ষা ঢোকার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ফলে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে দক্ষিণবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা চলতি মরশুমের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে।

