কর্ণাটকে আবগারি দুর্নীতি: ইডি তল্লাশিতে ফাঁস ঘুষের ‘সিন্ডিকেট রাজ’
নিজস্ব প্রতিনিধি: কর্ণাটকের আবগারি দফতরে (Excise Department) রমরমিয়ে চলছে ঘুষের কারবার। রীতিমতো ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি করে সুসংগঠিতভাবে তোলাবাজি চালাচ্ছেন সরকারি আধিকারিকরা। রাজ্যের একাধিক জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়ে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে কর্ণাটক লোকায়ুক্তের এফআইআর-এর (FIR) ভিত্তিতে এই তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তের রাডারে রয়েছে হেভিওয়েট ও মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠরা। রাজ্যের মোট ১৪টি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। এর মধ্যে আবগারি দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক জগদীশ নায়েক, কে এম তামান্না এবং ওয়াই ডি মঞ্জুনাথের সম্পত্তি ও বাসস্থান রয়েছে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মঞ্জুনাথ হলেন বল্লারির প্রাক্তন সাংসদ ওয়াই দেবেন্দ্রপ্পার ছেলে এবং কর্ণাটকের বর্তমান পূর্ত (PWD) মন্ত্রী সতীশ জারকিহোলির শ্যালক। ফলে এই দুর্নীতিতে প্রভাবশালীদের যোগসূত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে।ঘুষের টাকা বণ্টনের ‘ওয়েল-অয়েল্ড মেশিন’ইডি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই আবগারি দুর্নীতি একটি ‘ওয়েল-অয়েল্ড মেশিন’ বা সুসংগঠিত ব্যবস্থার মতো কাজ করছিল। লাইসেন্স দেওয়া, নবীকরণ (Renewal) বা দোকান স্থানান্তরের (Shifting) নাম করে বিভিন্ন মদের দোকান থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষ নেওয়া হতো। এই বিপুল টাকা একটি জায়গায় জমা করে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তা আধিকারিকদের মধ্যে বণ্টন করা হতো। হিসাব রাখার জন্য একটি বেআইনি ক্যাশ বইও ব্যবহার করা হতো বলে দাবি ইডির।
কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, বহু আবগারি কর্মকর্তা নিজেদের ক্ষমতা অপব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের নামে বেআইনিভাবে মদের লাইসেন্স নিয়েছিলেন। এই ব্যবসা থেকে অর্জিত কালো টাকা বা ‘প্রোসিডস অফ ক্রাইম’ (Proceeds of Crime) বিভিন্ন বৈধ ব্যবসায় খাটিয়ে বাজারে সাদা করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া নথি ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করছে ইডি।

