কেদারনাথ-বদ্রীনাথ ও হরিদ্বারে বোমা হামলার হুঁশিয়ারি, চরম সতর্কতায় উত্তরাখণ্ড
নিজস্ব প্রতিনিধি: কেদারনাথ, বদ্রীনাথ ও হরিদ্বার সহ উত্তরাখণ্ডের একাধিক জাগ্রত ধর্মীয় স্থান ও স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠানে আইইডি (IED) বোমা হামলার বিস্ফোরক হুমকি দেওয়া হলো। শুধু হিন্দু তীর্থক্ষেত্রগুলিই নয়, রাজ্যের একাধিক পর্যটন কেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন, সমস্ত পুলিশ থানা এবং পুরসভা ভবনও উড়িয়ে দেওয়া হবে বলে ইমেলের মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। একদিকে দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে পবিত্র অমরনাথ যাত্রা, অন্যদিকে উত্তরাখণ্ডে পুরোদমে চলছে চারধাম যাত্রা। ঠিক এই পুণ্য লগ্নে লাখ লাখ মানুষের সমাগমের মাঝেই এমন ধারাবাহিক বিস্ফোরণের হুমকিতে মঙ্গলবার রাত থেকে চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা পার্বত্য রাজ্যে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে উত্তরাখণ্ড জুড়ে জারি করা হয়েছে ‘হাই অ্যালার্ট’।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রথম হুমকিমূলক ইমেলটি পাঠানো হয় মুসৌরি পুরসভা (Mussoorie Municipal Council) এবং মহকুমা শাসক (SDM)-এর অফিশিয়াল ইমেল আইডিতে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হরিদ্বার পুর নিগমের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও একই ধরনের বিস্ফোরক মেইল আসে। ইমেলে অত্যন্ত কড়া ভাষায় দাবি করা হয়েছে যে, ২২ জুন থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তরাখণ্ডের একাধিক জায়গায় ধারাবাহিক আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। এই তালিকায় হরিদ্বার, ঋষিকেশ, কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ ধাম রয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লি-দেরাদুন রুটের প্রধান প্রধান রেল স্টেশন এবং রাজ্যের সমস্ত পুলিশ থানাকেও টার্গেট করা হয়েছে। এমনকি দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিও এই হামলার নিশানায় রয়েছেন বলে ইমেলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এই ইমেলের নেপথ্যে ‘খালিস্তান ন্যাশনাল আর্মি’ নামক উগ্রপন্থী সংগঠনের যোগসূত্র থাকতে পারে, কারণ প্রেরক নিজেকে ওই সংগঠনের সদস্য বলে দাবি করে একে ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকেও উত্তরাখণ্ডের থানাগুলিতে হামলার উসকানিমূলক পোস্ট শেয়ার করা হয়। এই ঘটনা জানাজানি হতেই রাজ্য পুলিশ তড়িঘড়ি মুসৌরি পুরসভা ভবন খালি করে দেয় এবং বোম স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড নিয়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে।
দেরাদুনের সিনিয়র পুলিশ সুপার (SSP) প্রমেন্দ্র দোভাল জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই মুসৌরি এবং নগর কোতোয়ালি থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যে সমস্ত ইমেল আইডি এবং আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে এই হুমকি পাঠানো হয়েছে, তা ট্র্যাক করতে সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে। হরিদ্বার এবং কেদারনাথের মতো হাই-প্রোফাইল তীর্থক্ষেত্রগুলিতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে। পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসন পুণ্যার্থী এবং পর্যটকদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, পাশাপাশি কোনও রকম সন্দেহভাজন বস্তু বা ব্যক্তি নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

