বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
দেশ

প্রাগৈতিহাসিক শিল্প রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ, মহারাষ্ট্র সরকারের

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬
প্রাগৈতিহাসিক শিল্প রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ, মহারাষ্ট্র সরকারের
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: মহারাষ্ট্রের কোঙ্কন অঞ্চলের হাজার হাজার বছরের পুরোনো প্রাগৈতিহাসিক পাথরের খোদাই চিত্র বা 'পেট্রোগ্লিফ' (Petroglyphs) সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। এই অতি প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং যথাযথ ব্যাখ্যার জন্য এবার আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ড্রোন ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে। চার বছর মেয়াদি এই মেগা প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে ১৫ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে মহারাষ্ট্র সরকার।

কোঙ্কন অঞ্চলের রত্নগিরি এবং সিন্ধুদুর্গ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মাটির নিচে ও পাথরের ওপর ছড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার বছরের প্রাচীন এই খোদাই চিত্র বা জিওগ্লিফ। প্রাক-ইতিহাস যুগের এই শিল্পকলাগুলিতে মূলত বিভিন্ন বন্য পশুপাখি, মানুষের অবয়ব এবং জটিল জ্যামিতিক নকশা খোদাই করা রয়েছে। ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে, এই চিত্রগুলি ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ বছর বা তারও আগের আদিম মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির এক অনন্য দলিল। ইউনেস্কোর (UNESCO) বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের সাময়িক তালিকাতেও স্থান পেয়েছে কোঙ্কনের এই ল্যাটেরাইট পাথরের খোদাই শিল্প।

কেন নেওয়া হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য? উন্মুক্ত আকাশের নিচে ল্যাটেরাইট পাথরের ওপর এই চিত্রগুলি খোদাই করা থাকায়, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, তীব্র রোদ-বৃষ্টি এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে এগুলি ক্রমাগত ক্ষয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ চোখে এই প্রাচীন খোদাইয়ের সূক্ষ্ম রেখাগুলি ধরা পড়ে না। এই সমস্যা দূর করতেই রাজ্য সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তর এবং পুরাতত্ত্ব বিভাগ যৌথভাবে এই প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে দুর্গম এলাকাগুলির হাই-রেজোলিউশন থ্রি-ডি (3D) ম্যাপিং করা হবে। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সেই ছবিগুলি বিশ্লেষণ করে খোদাইয়ের আসল আকৃতি, গভীরতা এবং সেগুলির বয়স নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

মহারাষ্ট্র সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই ১৫ কোটি টাকার প্রকল্পটি আগামী চার বছর ধরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হল— কোঙ্কন অঞ্চলের সমস্ত পেট্রোগ্লিফের একটি ডিজিটাল ডেটাবেস বা সংরক্ষণাগার তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষকরা সহজেই এ নিয়ে কাজ করতে পারেন। একই সঙ্গে এই ঐতিহাসিক স্থানগুলিকে কেন্দ্র করে যাতে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো যায়, সেই বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই আধুনিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইতিহাসবিদ এবং পুরাতাত্ত্বিক মহল। তাঁদের মতে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে কোঙ্কনের এই আদিম সভ্যতার ইতিহাস আন্তর্জাতিক স্তরে এক নতুন মাত্রা পাবে।