কন্যা ভ্রূণ হত্যা রুখতে মরিয়া মহারাষ্ট্র: শ্রীঘরে ১২৭
নিজস্ব প্রতিনিধি: কন্যা ভ্রূণ হত্যা রোধ এবং গর্ভস্থ শিশুর বেআইনি লিঙ্গ নির্ধারণ রুখতে রাজ্য জুড়ে বেনজির অভিযান শুরু করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। গর্ভধারণ ও প্রসবপূর্ব নিরূপণ কৌশল বা পিসিপিনডিটি (PCPNDT) আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের জেরে বিগত দুই বছরে রাজ্যে শতাধিক অপরাধী সাজা পেয়েছে।
‘দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন মহারাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য পরিচালক ড. বিজয় খান্দেওয়াড়। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে রাজ্যে অবৈধ লিঙ্গ নির্ধারণ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে। এই দুই বছরের মধ্যে পিসিপিনডিটি আইনের অধীনে বিভিন্ন আদালতে মোট ৬২৭টি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই লাগাতার অভিযানের ফলে আইনি স্তরেও বড় সাফল্য মিলেছে। ড. খান্দেওয়াড় জানিয়েছেন, দায়ের হওয়া মামলাগুলির মধ্যে দ্রুত শুনানির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ১২৭ জন অভিযুক্তকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শুনিয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক, আল্ট্রাসাউন্ড সেন্টারের মালিক এবং দালাল রয়েছে, যারা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের ব্যবসা চালাচ্ছিল।
মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কন্যা ভ্রূণ হত্যার মতো সামাজিক ব্যাধি রুখতে এই ধরণের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অত্যন্ত জরুরি ছিল। আদালত থেকে অপরাধীদের দ্রুত সাজা মেলায় এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের কাছেও একটি কড়া বার্তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। রাজ্যের লিঙ্গ অনুপাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং এই বেআইনি নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে আগামী দিনেও এই তীব্র অভিযান জারি থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

