বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
দেশ

নেপালে বৈধ গাঁজা, চিন্তায় মায়ানগরী বিহার

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬
নেপালে বৈধ গাঁজা, চিন্তায় মায়ানগরী বিহার
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: নেপালে দেশজুড়ে গাঁজা নিষিদ্ধ। তবে সেই জাতীয় নিষেধাজ্ঞা উড়িয়েই এবার এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল হিমালয়ের কোলের দেশ নেপালের অন্যতম প্রধান গণ্ডকী প্রদেশ। সম্প্রতি ওই প্রদেশের গভর্নর বা চিফ দীর্ঘ বিতর্কিত একটি বিলে অনুমোদন দেওয়ায় তা সরকারিভাবে আইনে পরিণত হয়েছে। নতুন এই আইন অনুযায়ী, গণ্ডকী প্রদেশে এখন থেকে ওষুধ তৈরি এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রয়োজনে সম্পূর্ণ বৈধভাবে গাঁজা চাষ ও তার ব্যবহার করা যাবে। তবে এই আইনি ছাড়পত্র মেলার পর থেকেই ভারতের সীমান্ত লাগোয়া রাজ্য বিহারে তীব্র আশঙ্কার মেঘ জমতে শুরু করেছে। 

ভৌগোলিক দিক থেকে নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের সীমান্ত ভারতের বিহার রাজ্যের বেশ কাছাকাছি। আর এই নৈকট্যই নতুন করে প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিহারে দীর্ঘদিন ধরেই মদ পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে পড়শি দেশের একটি প্রদেশে গাঁজা চাষের আইনি ছাড়পত্র মেলায়, সেই আইনের অপব্যবহার করে বিহারে দেদার গাঁজা চোরাচালান হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মাদক পাচারকারীরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বিহারে চোরাই মাদকের রমরমা বাজার তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নেপালের একটি অত্যন্ত স্থানীয় এবং প্রাকৃতিক উদ্ভিদ হলো এই গাঁজা। সেদেশের সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে একাধিক ধর্মীয় উৎসবে বহু বছর ধরে গাঁজার ব্যবহার দস্তুর। তা সত্ত্বেও সেদেশের জাতীয় আইন অত্যন্ত কড়া। নেপালের আইন অনুযায়ী, কেউ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাঁজা কাছে রাখলে তাঁর একমাসের কারাদণ্ড হতে পারে। আর গাঁজা বিক্রি বা সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত থাকলে অপরাধের গুরুত্ব বুঝে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত জেলের সাজা হতে পারে। 
এই কড়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে নেপালে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, গাঁজা চাষের উপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হোক। সেই আন্দোলনের জেরেই এবার নেপালের সাতটি প্রদেশের অন্যতম, পোখরা শহর ও পর্বতমালা ঘেরা গণ্ডকী প্রদেশ এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল। যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, এই চাষ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হবে এবং কড়া নজরদারির মাধ্যমে শুধু ওষুধ তৈরির জন্যই লাইসেন্স দেওয়া হবে। তা সত্ত্বেও সীমান্ত পারের চোরাচালান রুখতে ভারত ও নেপাল, দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকেই এখন থেকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আরও দেশ খবর