জেমবি-র সহযোগী সংগঠনের বড়সড় জঙ্গি ষড়যন্ত্র ফাঁস করল এনআইএ
নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-র একটি সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে চালিত একটি বড়সড় সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করল ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে জঙ্গি মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ১১ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে এনআইএ। শুক্রবার গুয়াহাটির বিশেষ এনআইএ আদালতে এই চার্জশিট পেশ করা হয় বলে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩ এবং কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএ(পি) অ্যাক্ট (UAPA), ১৯৬৭-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এনআইএ-র তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি-র প্রবীণ সদস্য ইমাম মাহমুদ হাবিবুল্লাহ ভারতে সংগঠনটির কুখ্যাত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে 'ইমাম মাহমুদুর কাফিলা' (IMK) নামে এই নতুন শাখাটি গড়ে তুলেছিল।
এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম ও ত্রিপুরায় চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া। এর জন্য তারা অসহায় ও দুর্বল যুবকদের মগজধোলাই বা র্যাডিক্যালাইজ করার কাজে লিপ্ত ছিল।
গোপন কার্যকলাপ ও প্রোপাগান্ডা: অভিযুক্তরা ভারতে IMK এবং JMB-র উপস্থিতি বাড়াতে একাধিক গোপন বৈঠক, ধর্মীয় উগ্রপন্থী শিক্ষাদান কর্মসূচি এবং চরমপন্থী লিটারেচার বা বইপত্র বিতরণ করছিল। এছাড়া, ভারত-বিরোধী প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য তারা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করত।
চার্জশিটে নাম থাকা অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম প্রধান দুজন হলো নাসিমুদ্দিন এবং জাকির মিয়া। নাসিমুদ্দিন আসামে IMK-র যাবতীয় কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছিল এবং জাকির মিয়া ত্রিপুরায় এই সংগঠনের জাল বিস্তারের দায়িত্বে ছিল।
তদন্ত চলাকালীন কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে আপত্তিকর নথি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং ডিজিটাল রেকর্ড উদ্ধার করেছে, যা তাদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা হয়েছে।
পুরো চক্রটির শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে, তা জানতে তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রেখেছে প্রশাসন।

