দেশ
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জয়ী ধর্ষণে অভিযুক্ত
প্রকাশিত: ৭ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: শিশুধর্ষণ ও মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত এক ‘গুণধর’ পাক নেতা শেষ পর্যন্ত ভোটে জিতে গেলেন। বিতর্কিত এই ঘটনাটি ঘটেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করা হচ্ছে যে, এই নির্বাচনটি আদতে পুরোটাই ‘সাজানো’ এবং ‘জাল’। আর সেই প্রহসনের ভোটেই জয়ী হয়েছেন মূল অভিযুক্ত রাশকর আহমেদ।
জানা গিয়েছে, ব্রিটেনের ম্যাঞ্চেস্টারের একটি কুখ্যাত অপরাধ চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই পাক নেতার বিরুদ্ধে। সেই সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও পাচারের মতো মারাত্মক অভিযোগ ওঠে। এই মামলার তদন্তে নেমে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল ব্রিটিশ পুলিশ। পরে অবশ্য তিনি সাময়িকভাবে জামিন পান।
বিতর্কের শেষ এখানেই নয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে ব্রিটেনের আদালত তাঁকে ফের জামিনের শুনানির জন্য তলব করেছিল। কিন্তু সেই সময় ‘অসুস্থতা’র চরম বাহানা দিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান ৬২ বছরের রাশকর। অথচ, আদালতের চোখে অসুস্থ সেই নেতাকেই বহাল তবিয়তে কাশ্মীরের মিরপুরে ভোটের প্রচারে ঝড় তুলতে দেখা গিয়েছে।
গত ২৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচন প্রক্রিয়া আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের শাসক দল পিএমএল-এন (PML-N) মোট ৫৩টি আসনের মধ্যে ২৪টিতে জয়লাভ করে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। রাশকর আহমেদ নিজে ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে নিজের আসনটি পুনর্দখল করেছেন।
রাজনীতিতে রাশকরের প্রভাব অবশ্য নতুন নয়। ২০০৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সরকারে একাধিক বার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব সামলেছেন তিনি। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসনেই হেরে যান। এবার গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত চলাকালীন তাঁর এই জয় পাকিস্তানের রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।

