দেশ
গর্ভবতী স্ত্রীকে বালতির জলে চুবিয়ে খুন
প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: পারিবারিক কলহের জেরে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বালতির জলে চুবিয়ে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। হরিয়ানার ফরিদাবাদের পঞ্চশীল কলোনি পার্ট-২ এলাকায় এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত বছর ছাব্বিশের ওই গৃহবধূর নাম নেহা কুমারী। তিনি বিহারের মুজাফফরপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বামীর নাম অমিত গুপ্ত। তিনি উত্তর প্রদেশের হারদোই জেলার বাসিন্দা। জীবিকার সূত্রে ফরিদাবাদের ওই কলোনিতে সস্ত্রীক ভাড়া থাকতেন অমিত। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে মাঝেমধ্যে অশান্তি হতো বলে প্রতিবেশীদের দাবি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বচসা বাঁধে। ঝগড়া চলাকালীন আচমকাই নেহার ওপর চড়াও হন অমিত। অভিযোগ, ৬ মাসের গর্ভবতী স্ত্রীর আর্তনাদেও মন গলেনি তাঁর। নেহাকে জোরপূর্বক বাথরুমে নিয়ে গিয়ে জলে ভর্তি বালতির মধ্যে মাথা চুবিয়ে ধরে রাখা হয়। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নেহার। স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরেই বাড়ি ছেড়ে চম্পট দেন অভিযুক্ত স্বামী।
পরদিন সকালে ঘরের দরজা খোলা এবং নেহার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তাঁরাই বাথরুম থেকে নেহার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক ও আর্থিক কোনো বিবাদের জেরে এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন অমিত। নিহতের বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে জামাইয়ের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে দ্রুত তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

