চলন্ত ট্রেনে আরপিএফ কনস্টেবলের গুলি: নিহত যাত্রীর স্ত্রীকে ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ
নিজস্ব সংবাদদাতা: চলন্ত ট্রেনে রেলসুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) এক কনস্টেবলের এলোপাথাড়ি গুলিতে নিহত যাত্রীর পরিবারকে বড়সড় আর্থিক স্বস্তি দিল রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল (আরসিটি)। ওই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হওয়া এক সহ-যাত্রীর স্ত্রীকে ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনালের কলকাতা বেঞ্চ।
রেল এবং আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুর থেকে মুম্বইগামী ১২৯৫৬ সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনটি যখন মহারাষ্ট্রের পালঘর স্টেশনের কাছাকাছি আসছিল, তখন আচমকাই ট্রেনের বি-৫ কামরায় নিজের সার্ভিস রাইফেল থেকে সহকর্মী এবং যাত্রীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন চেতন সিং নামের এক আরপিএফ কনস্টেবল। মানসিক অবসাদ ও রাগের বশে চালানো ওই গুলিবর্ষণে ট্রেনের ভিতরেই মৃত্যু হয় আরপিএফের এক এএসআই টিকিরাম মিনা এবং তিন সাধারণ যাত্রীর। নিহত সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সৈয়দ সইফুদ্দিন।
ঘটনার পর গভীর শোকে ভেঙে পড়ার পাশাপাশি চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে সৈয়দ সইফুদ্দিনের পরিবার। তাঁর স্ত্রী রিজওয়ানা শাহিন স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর বিচার এবং উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিতে রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। রেলের তরফে প্রথমে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল যে, এই ঘটনাটি কোনও ট্রেন দুর্ঘটনা বা উগ্রপন্থী হামলা নয়, বরং একটি অপরাধমূলক ঘটনা। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়।
কলকাতা বেঞ্চের জুডিশিয়াল মেম্বার সুখবীর সিং এবং টেকনিক্যাল মেম্বার আর. কে. রাই তাঁদের পর্যবেক্ষণে জানান, চলন্ত ট্রেনের ভেতরে কর্তব্যরত এক রেলকর্মীর গুলিতে একজন বৈধ টিকিটধারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। রেলের সুরক্ষাবলয়ের ভেতরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটায় এর দায় কোনোভাবেই রেল কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। সমস্ত দিক বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল মৃত যাত্রীর স্ত্রীকে অনতিবিলম্বে ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে।
এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে নিহতের পরিবার ও আইনজ্ঞ মহল। তাঁদের মতে, এই ঐতিহাসিক নির্দেশিকা প্রমাণ করল যে চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রেলেরই, এবং সেখানে কোনও গাফিলতি হলে রেলকে তার মাশুল দিতেই হবে।

