দেশ
নিয়মিত বিলাসবহুল জীবনের আপডেট, ইউটিউবারের বাড়িতে ডাকাতি
প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় গয়না ও বিলাসবহুল জীবন প্রদর্শনের মাশুল দিতে হল ইউটিউবার রচনা গুর্জরকে। তাঁর বাড়িতে লক্ষাধিক টাকার ডাকাতি হল। নিজের প্রাচুর্য ও মূল্যবান অলঙ্কার সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরাই কাল হলো মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার জনপ্রিয় এই ইউটিউবার রচনা গুর্জরের। লাইভ ভিডিও এবং রিলসে সোনা-রুপোর গয়না ও বিলাসবহুল লাইফস্টাইল দেখানোর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাঁর বাড়িতে হানা দিল একদল দুর্ধর্ষ চোর।
আলমারি ভেঙে নগদ ১ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা, সোনার মঙ্গলসূত্র, ৪টি সোনার আংটি ও রুপোর সামগ্রীসহ প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকার সম্পত্তি লুঠ করে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে শিবপুরী জেলার নরভার থানা এলাকার অন্তর্গত মোহানি খ্যায়ভাদা গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে চোরেরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাড়ির সীমানার কাঁটাতারের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা রচনা গুর্জর ও তাঁর স্বামীর ঘরের দরজার কুন্ডি বাইরে থেকে লক করে দেয়, যাতে চুরির সময়ে কেউ বাইরে বেরোতে না পারেন। শনাক্তকরণ এড়াতে দুষ্কৃতীরা একটি লাঠির সাহায্যে বাড়ির বাইরে ও নিচে লাগানো সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরাগুলির মুখ ওপরের দিকে ঘুরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। এরপর নির্বিঘ্নে আলমারি ও লকার ভেঙে সোনা, রুপো এবং নগদ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।
শুধু তাই নয়, যাওয়ার আগে ফ্রিজে রাখা প্রায় ৮,০০০ টাকা মূল্যের এনার্জি ড্রিঙ্কের (Red Bull) একটি পুরো পেটিও সঙ্গে করে নিয়ে যায় চোরেরা! ভোর ৪টে নাগাদ তৃষ্ণা পাওয়ায় রচনা গুর্জর ঘুম থেকে উঠলে বিষয়টি টের পান এবং ফোন করে তাঁর জেঠতুতো দাদাকে ডেকে দরজা খোলান।
ভিডিও দেখেই কি ছক? তদন্তে পুলিশতদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে রচনার পোস্ট করা ভিডিওগুলি দেখেই চোরেরা এই অপরাধের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল। রচনা গুর্জর তাঁর ১ লক্ষেরও বেশি অনুগামীর জন্য প্রায়শই বাড়ির ভেতরের অংশ, আলমারি, গয়না এবং নগদ টাকা সাজিয়ে ভিডিও তৈরি করতেন। পুলিশ মনে করছে, এই ভিডিওগুলির মাধ্যমেই চোরেরা বাড়ির নকশা এবং কোথায় মূল্যবান সামগ্রী রাখা থাকে, তার স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যায়।
শিবপুরী জেলা পুলিশ ইতিমধ্যেই চুরির মামলা দায়ের করে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। এই ঘটনা ডিজিটাল যুগে সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য এবং সম্পত্তির প্রদর্শনের (Oversharing) মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

