দেশ
তিস্তা প্রকল্পে বেজিংয়ের সমর্থন, দিল্লির আশঙ্কার কারণ নেই
প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশের বহুল চর্চিত ‘তিস্তা রিভার কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্ট’ বা তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের মাঝেই বড়সড় বার্তা দিল বেজিং। সোমবার এই প্রকল্পে ঢাকার পাশে থাকার কথা পুনরুচ্চারণ করে চীন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে কোনো ‘তৃতীয় পক্ষকে’ নিশানা করা হচ্ছে না। ফলে দিল্লির আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। তবে একই সঙ্গে তারা সাফ জানিয়েছে, এই দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপও বরদাস্ত করা হবে না।
চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বেজিংয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, তিস্তা নদীর সামগ্রিক সংস্কার ও পুনরুদ্ধার বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এই প্রকল্পকে সফল করতে চীন তার সাধ্যমতো সমস্ত প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সাহায্য করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সহযোগিতা সম্পূর্ণভাবে বহিরাগত বা তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা উচিত। একই সুর শোনা গিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের গলাতেও। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্পের কারিগরি ও বাস্তবসম্মত দিক খতিয়ে দেখতে যৌথ সমীক্ষা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভারতের শিলিগুড়ি করিডর তথা ‘চিকেনস নেক’-এর খুব কাছাকাছি অবস্থিত এই তিস্তা নদী। এই সংকীর্ণ করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে যুক্ত করে। ফলে ‘চিকেনস নেকে’র এত কাছে চীনের মতো এক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত উপস্থিতি ও আর্থিক বিনিয়োগ ভারতের জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড়সড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ও সামরিক মহল। এই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হলেও, চীন এটিকে স্রেফ একটি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ হিসেবেই দেখতে অনুরোধ করেছে।

