প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে ফুসছে ত্রিপুরা
নিজস্ব প্রতিনিধি: আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ (AGMC) এবং জিবি পন্ত (GBP) হাসপাতালের ফ্যাকাল্টি ও সুপার-স্পেশালিস্ট চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য মন্ত্রিসভার এই 'একতরফা' সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন রাজ্যের শীর্ষস্তরের চিকিৎসকরা। সরকারের দেওয়া ২০ শতাংশও নন-প্র্যাকটিসিং ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সরকারি এই নির্দেশিকার প্রতিবাদে নিউরো সার্জারি, নিউরোলজি, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, প্লাস্টিক সার্জারি, ইউরোলজি এবং গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের ১৭ জন শীর্ষস্থানীয় সুপার-স্পেশালিস্ট চিকিৎসক একজোট হয়েছেন। তাঁরা জিবিপি হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ড. বিধান গোস্বামীর কাছে একটি যৌথ গণ-স্মারকলিপি জমা দিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। চিকিৎসকদের ফোরামের স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁরা যখন সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষিদ্ধ করার মতো কোনও শর্ত ছিল না। এখন হঠাৎ করে নিয়মের এই পরিবর্তন তাঁরা মেনে নেবেন না।
সরকার প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে চিকিৎসকদের মূল বেতনের ওপর ২০ শতাংশ ভাতা বাড়ানোর যে লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল, চিকিৎসকরা তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন। আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র প্র্যাকটিস বন্ধ করলেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হবে না। এর জন্য প্রয়োজন হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, আইসিইউ (ICU) ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি মেটানো এবং পর্যাপ্ত শূন্যপদে লোকবল নিয়োগ করা। সঠিক পরিকাঠামো না বাড়িয়ে এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা আসলে সাধারণ রোগীদেরই আরও বেশি বিপদে ফেলবে এবং চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হবে।

