বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
দেশ

টানা ৬ বছর পার, বিচার শুরু হয়নি উমর খালিদ-শারজিল ইমামের

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬
টানা ৬ বছর পার, বিচার শুরু হয়নি উমর খালিদ-শারজিল ইমামের
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লির ভয়াবহ হিংসা কাণ্ডের ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ (Larger Conspiracy) মামলায় ফের আদালতের দ্বারস্থ হলেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ এবং গবেষক শারজিল ইমাম। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে কোনো বিচার প্রক্রিয়া (Trial) শুরু না হওয়ায় এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাবাস চলায়, দিল্লির করকরডুমা আদালতে নতুন করে জামিনের আবেদন জানিয়েছেন এই দুই বন্দি। দেশের কঠোরতম সন্ত্রাসদমন আইন 'ইউএপিএ' (UAPA)-র ধারায় ধৃত উমর ও শারজিলের এই নতুন আইনি পদক্ষেপ ঘিরে ফের একবার সরগরম জাতীয় রাজনীতি ও আইনি মহল।

২০২০ সালের সিএএ (CAA) এবং এনআরসি (NRC) বিরোধী আন্দোলনের সময় উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক হিংসায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলেন ৭০০-রও বেশি মানুষ। দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, এই হিংসার নেপথ্যে একটি সুপরিকল্পিত ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল, যার মূল রূপকার ছিলেন উমর খালিদ, শারজিল ইমাম সহ বেশ কয়েকজন। সেই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে উমর খালিদকে গ্রেফতার করা হয়। তার আগে থেকেই অন্য একটি মামলায় জেলে ছিলেন শারজিল।
দীর্ঘ ৬ বছর জেলে কাটানোর পরেও কেন তাঁরা ফের নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হলেন। তার সপক্ষে উমর ও শারজিলের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের একাধিক সাম্প্রতিক রায়ের নজির টেনেছেন। অভিযোগ দীর্ঘ ৬ বছর কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত আদালতে মূল মামলার চার্জ গঠন (Charge Framing) করা সম্ভব হয়নি। ১ হাজারেরও বেশি সাক্ষীর বয়ান পরীক্ষা করা বাকি। 
কোনো সাজা ঘোষণা ছাড়াই বছরের পর বছর এভাবে বিচারাধীন বন্দি (Under-trial Prisoner) হিসেবে আটকে রাখা ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত 'ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার'-এর পরিপন্থী।
দেশের শীর্ষ আদালত একাধিক মামলায় স্পষ্ট জানিয়েছে, ইউএপিএ-র মতো কঠোর আইন থাকলেও, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যদি মাত্রাতিরিক্ত দেরি হয়, তবে অভিযুক্তকে অনির্দিষ্টকাল আটকে না রেখে জামিন দেওয়া যেতে পারে।
এর আগে ২০২২ সালে করকরডুমা আদালত এবং দিল্লি হাইকোর্ট উমর খালিদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টেও দীর্ঘদিন তাঁর জামিনের আবেদন ঝুলে থাকার পর, শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। তবে এবার ‘বিচার প্রক্রিয়ার স্থবিরতা’-কে প্রধান হাতিয়ার করে নতুন করে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন তাঁরা। দিল্লির করকরডুমা আদালত দিল্লি পুলিশের কাছে এই নতুন জামিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে জবাব তলব করেছে। আগামী দিনে এই মামলার জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে দেশের ওয়াকিবহাল মহল।