জেলা
টানা বৃষ্টিতে নদী ফুসছে, মাছ ধরার ধুম
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জেলার ডুয়ার্স সংলগ্ন কুমারগ্রাম ব্লকে গত কয়েক দিন ধরেই চলছে অবিরাম বর্ষণ। আর সেই অবিরাম বৃষ্টি এবং পাহাড় থেকে নেমে আসা ঘোলা জলের তীব্র স্রোত— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে ব্লকের নদীপাড়গুলোতে এখন এক অদ্ভুত উন্মাদনা। বিগত কয়েকদিনের এই টানা বৃষ্টির জেরে ব্লকের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সংকোশ এবং রায়ডাক-২ নদীতে জলস্তর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। আর নদীর জল বাড়ার সঙ্গেই এখন নদীপাড়ের বাসিন্দাদের ব্যস্ততা তুঙ্গে উঠেছে। নদী থেকে নতুন মাছ ধরার জন্য জলমগ্ন ঘাটগুলিতে এখন চোখে পড়ার মতো ভিড় জমছে সাধারণ মানুষের।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বর্ষার শুরুতেই নদীর এই রূপ দেখার জন্য যেমন বহু মানুষ ভিড় করছেন, তেমনই এক শ্রেণির মানুষের কাছে এই সময়টা বাড়তি রোজগারের মরসুম। জল বাড়তেই সংকোশ ও রায়ডাকের ঘোলা জলে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ, বোয়াল, চিলনি ও নানা পাহাড়ি মাছ উজান বইতে শুরু করেছে। এই সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ স্থানীয় মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে আমজনতা। ভোর হতেই জাল, পলুই ও নানা মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে তাঁরা নদীর কিনারায় পাহারায় বসছেন।
বিপজ্জনক জলস্রোত অগ্রাহ্য করেই অনেকে কোমর জলে নেমে মাছ ধরছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, প্রতি বছরই বর্ষার এই শুরুর দিনগুলিতে নদীতে হরেক রকমের সুস্বাদু ছোট-বড় মাছ পাওয়া যায়। বাজারে এই সব টাটকা মাছের চাহিদাও থাকে তুঙ্গে। ফলে অনেকেই নিজেদের খাওয়ার পাশাপাশি বাড়তি মাছ বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে ভালো টাকা রোজগার করছেন।
তবে এই উন্মাদনার মধ্যেও প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নদীপাড়ের উপচে পড়া ভিড়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পাহাড়ে ও সমতলে আরও কয়েকদিন এই ভারী বৃষ্টিপাত জারি থাকবে। ফলে নদীগুলির জলস্তর আরও বৃদ্ধি পেয়ে যেকোনো মুহূর্তে হড়পা বান বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কোনো রকম দুর্ঘটনা এড়াতে নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে কুমারগ্রাম ব্লক প্রশাসন।

