অন্তঃসত্ত্বাকে লাথি, ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলর
নিজস্ব প্রতিবেদন, বোলপুর: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার পেটে লাথি মারা এবং গর্ভস্থ ভ্রূণ নষ্ট করার মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বীরভূমের বোলপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রভাবশালী তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে মুন। বুধবার গভীর রাতে বোলপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। কেষ্ট অর্থাৎ অনুব্রত মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই কাউন্সিলরের আকস্মিক গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ২০২১ সালে রাজ্যে বিধানসভা ভোট মিটে যাওয়ার পর বীরভূম জুড়েই ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় বোলপুরে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে এই তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, বিশ্বজ্যোতি নিজেই ওই মহিলার পেটে সপাটে লাথি মারে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর বোলপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এতদিন পর, রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসার পুরনো মামলার তদন্ত শুরু করতেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই হেভিওয়েট নেতা।
বৃহস্পতিবার সকালে কড়া
নিরাপত্তায় বিশ্বজ্যোতিকে বোলপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, দীর্ঘ চার বছর ধরে পুলিশ এই প্রভাবশালী নেতাকে আড়াল করে রেখেছিল। অবশেষে নির্যাতিতা পরিবার বিচার পেতে চলেছে। অন্য দিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বোলপুরে একের পর এক শাসকদলের নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেই ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের স্বামী এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চন্দন দত্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। এবার বিশ্বজ্যোতি গ্রেফতার হওয়ায় তটস্থ বোলপুর পুরসভার বাকি তৃণমূল নেতৃত্ব।

