জেলা
বর্ধমান শহরে বিল বুজিয়ে আবাসনের চক্রান্ত
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: গ্রিন ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশিকা উড়িয়ে ফের জলাভূমি বুজিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠল বর্ধমান শহরে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা প্রায় ৩০০ বিঘা আয়তনের এক বিশাল বিল বুজিয়ে বহুতল আবাসন বা প্রোমোটিংয়ের চক্রান্ত চলছে বলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই বেআইনি ভরাটের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পরিবেশপ্রেমী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রিটিশ আমল থেকে ‘শশাঙ্কের বিল’ নামে পরিচিত এই ঐতিহাসিক জলাভূমিটি বর্ধমান পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপল্লি, ইছলাবাদ ও আনন্দপল্লি— এই তিনটি বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। বিস্তীর্ণ এই অঞ্চলের জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই বিলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্ষার মরসুমে শহরের একাংশের অতিরিক্ত জল এই বিলেই এসে জমা হয়। কিন্তু অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে রাতের অন্ধকারে মাটি ও আবর্জনা ফেলে বিলের জলভাগ ছোট করার চেষ্টা চালাচ্ছে একদল জমি মাফিয়া ও প্রোমোটার।
এলাকাবাসীর দাবি, এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার এই ঐতিহ্যবাহী জলাভূমিটি বুজিয়ে ফেলার মরিয়া চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই সময় স্থানীয় মানুষের লাগাতার আন্দোলন এবং জেলা প্রশাসনের দ্রুত তৎপরতায় বেআইনি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন শান্ত থাকার পর, প্রশাসনের নজরদারি একটু শিথিল হতেই আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ল্যান্ড মাফিয়ারা। রাতের অন্ধকারে সেখানে পাঁচিল তোলার কাজও শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ।
পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, ৩০০ বিঘার এই বিশাল বিলটি যদি একবার পুরোপুরি বুজে যায়, তবে শ্রীপল্লি, ইছলাবাদ ও আনন্দপল্লি সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা সামান্য বৃষ্টিতেই জলের তলায় চলে যাবে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় নাগরিক মঞ্চের তরফে জেলাশাসক ও পুরসভার কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে। পুর প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই জলাভূমি ভরাট বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত কড়া আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

